
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ স্বপ্নদীপ কুন্ডুর মৃত্যুর দায় কার? উত্তরের খোঁজে পরিবার থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন তদুপরি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। পড়ুয়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ১১ জনের একটি কমিটি গড়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ১১ জনের ওই কমিটিতে রাখা হয়েছে ৭ অধ্যাপক, ৩ পড়ুয়া এবং ১ চিকিৎসককে।
নদিয়ার বগুলা থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলেন স্বপ্নদীপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দু’দিনের ক্লাস ভালোই লেগেছিল তাঁর। ফোনে সেকথা তিনি জানিয়েও ছিলেন পরিবারকে। বুধবার রাতে মাকে তিনি ফোনে বলেছিলেন, ‘বড্ড ভয় করছে, তোমরা আমাকে বাড়ি নিয়ে যাও’। তবে তাঁর ভয় পাওয়ার কারণ সেই সময়ে তিনি স্পষ্ট করেননি। তার কয়েক মুহূর্ত পরেই সব শেষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলের বারান্দা থেকে পড়ে গুরুতর জখম হয় ওই পড়ুয়া। হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টা থাকার পরেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন স্বপ্নদীপ।
র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন স্বপ্নদীপ, এমনই অভিযোগ পরিবারের। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন অধ্যাপকও সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। অভিযোগের তির হস্টেলের কয়েকজন আবাসিকের বিরুদ্ধে। পুলিশি তদন্ত এগোলেও এখনও পাকা প্রমাণ হাতে আসেনি।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কোমর বেঁধে নেমেছে কর্তৃপক্ষও। শুক্রবার সকালে রাজভবনে গিয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের একটি দল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টি র্যাগিং কমিটির প্রতিনিধিরিা এদিন বেশ কিছুক্ষণ বৈঠক করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে।
তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ডিন অফ স্টুডেন্টস ও হস্টেল সুপারকে এক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ ছাত্রকে আজ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তবে তাঁদের কেউই এদিন পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হননি। তদন্তে অসহযোগিতা করছেন তাঁরা, এমনই খবর সূত্রের।
গতকাল স্বপ্নদীপের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। মৃত ছাত্রের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সঠিক তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন আচার্য।
