kolkata

3 years ago

SSC Scam : হৈমন্তীর অ্যাকাউন্ট থেকে ভায়া টাকা গেল আরমানের অ্যাকাউন্টে! সেই অ্যাকাউন্ট নমিনি কে?

Haymanti Ganguly
Haymanti Ganguly

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরেই যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ প্রকাশ্যে আনেন গোপালের নাম। সেই কুন্তলের মুখেই বৃহস্পতিবার হৈমন্তীর নাম শোনা গিয়েছে। তার পর থেকেই এই মহিলা কে নিয়ে উঠেএসেছে এ =কের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। 

আবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আরেক ধৃত তাপস মণ্ডল, তারই ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত গোপাল দলপতি ওরফে আরমান গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি খতিয়ে দেখে সিবিআই-র হাতে যে তথ্য এসেছে তা বেশ জটিল, প্রথমে হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায় নামের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গিয়েছে ‘আরমান ট্রেডিং’ নামক একটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে। তার পর ওই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পৌঁছেছে আরমানের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। ঘটনাচক্রে, একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে আরমানের সেই অ্যাকাউন্টের নমিনি আবার হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়! সিবিআইয়ের একটি সূত্রের দাবি, গোপালেরই আর এক নাম আরমান। দুই নামে তাঁর দু’টি প্যান কার্ডের হদিসও মিলেছে। 

সিবিআই-র মতে,দুর্নীতির ক্ষেত্রে এই ভাবে চক্রাকারে টাকা লেনদেনের প্রবণতা নতুন নয়। বিভিন্ন শেল কোম্পানির মাধ্যমে দুর্নীতির কালো টাকা সাদা করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রেও সে রকম কিছু ঘটে থাকতে পারে। সেই কারণেই হৈমন্তীর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরাসরি আরমানের অ্যাকাউন্টে না গিয়ে ‘আরমান ট্রেডিং’ নামক সংস্থার মাধ্যমে পৌঁছেছে বলেই ধারণা গোয়েন্দাদের।  

অন্যদিকে, ‘আরমান ট্রেডিং’ সংস্থা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু তথ্য জোগাড় করেছে সিবিআই। গোয়েন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বড়বাজারে ওই সংস্থার অফিস রয়েছে। সংস্থাটির সঙ্গে যে আরমান ‘প্রত্যক্ষ’ ভাবে জড়িত, হাতে এসেছে সেই তথ্যপ্রমাণও। আপাতত তদন্তকারীরা এই তথ্য খুঁজে বার করারা চেষ্টা করছে ঠিক কবে থেকে হৈমন্তী এবং আরমানের মধ্যে ভায়া ‘কোম্পানি’ টাকার লেনদেন শুরু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সূত্রে ২০১৭ সালের একটি লেনদেনও তদন্তকারীদের নজর কেড়েছে। ওই বছর মুম্বইয়ের একটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের টাকা পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সংস্থার সঙ্গে হৈমন্তী এবং আরমানের কী সম্পর্ক, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

বৃহস্পতিবার জামিনের আর্জি খারিজ হওয়ার পর আলিপুর আদালত থেকে বেরোনোর সময় কুন্তল বলেন, ‘‘নিয়োগ দুর্নীতির টাকা হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে।’’ তদন্তকারীদের ওই সূত্র জানাচ্ছে, কুন্তলের এই দাবি কতটা ঠিক বা আদৌ সঠিক কি না এবং হৈমন্তীর অ্যাকাউন্ট থেকে যে টাকার লেনদেন হয়েছে তা ‘নিয়োগ দুর্নীতি’র কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, অতীতে তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেও গত কয়েক দিন ধরে গোপালের সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের দাবি, তদন্তে নতুন যা যা তথ্য উঠে এসেছে, সেই ব্যাপারে গোপালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে নিয়োগে ‘দুর্নীতি’র জট আরও কিছুটা খোলা সম্ভব হবে। 

You might also like!