
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বারবার আবেদন করেও জামিন পাননি। আর এবার জট বাড়ছে আরও! আরও বিপাকে পড়তে চলেছেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য।
নিয়োগ সংক্রান্ত আরও একটি নতুন মামলায় জড়াতে চলেছে মানিকবাবুর নাম। সিবিআই-কে নতুন করে এফআইআর করে অবিলম্বে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে গিয়ে পলাশিপাড়ার বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। সন্ধ্যায় ফের মামলা শুনবেন বিচারপতি। নির্দেশ কতটা কার্যকর হল, তা আদালতে জানাতে হবে সিবিআই-কে।
২০২০ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন এমন ৩০ জন প্রাথমিকের চাকরি প্রার্থী মামলা করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, কাউন্সেলিং-এর সময় তাঁদের বলা হয়েছিল, তাঁদের নিজ নিজ জেলায় কোনও শূন্যপদ নেই। কিন্তু ১০ দিন পর একাধিক জেলায় ওই সব শূন্যপদে নিয়োগ হয়।
এই নতুন মামলায় অবিলম্বে সিবিআই এবং ইডিকে মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীকে ১ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। ‘এটা পরিকল্পিত দুর্নীতি’ বলে উল্লেখ করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।’
মামলা শুনে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, টাকার যোগসূত্র আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যাঁদের এ ক্ষেত্রে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ক আছে। মানিক ভট্টাচার্যকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে উল্লেখ করে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘খুব বুদ্ধি দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যই করেছিলেন। সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও, ১০ মাসে কিছুই করেনি সিবিআই। আজই সংশোধনাগারে যান। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় মঙ্গলবার বিকেলে নির্দেশ দেন যাতে সিবিআই এদিনই সংশোধনাগারে গিয়ে মানিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
সিবিআই-কে নির্দেশ, নতুন করে কেস শুরু করুন। প্রায় ৪০০ জন প্রার্থী যাঁরা এই নিয়োগের ক্ষেত্রে সুবিধা পেয়েছেন, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। জিজ্ঞাসাবাদের পর মনে হলে মানিককে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া যাবে বলেও জানিয়েছে আদালত।
