
কলকাতা : ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা উৎপাত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের হাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে তুলে দিয়েছেন।’ যাদবপুর কাণ্ডে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীকে এভাবেই কাঠগড়ায় তুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
তিনি বলেন, ‘উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বলেছেন, ওখানে আমি যাব না। কেন যাবেন না? ওঁর দায়িত্ব নেই? উনি কি ওখানকার মুখ্যমন্ত্রী নন? যাদবপুর কি ওঁর রাজত্বের বাইরে? সেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে আটকানো হয়, রাজ্যপালকে আটকানো হয়, উনি দাঁড়িয়ে দেখেন।’ দিলীপের প্রশ্ন, ‘গণ্ডগোল হলে তৃণমূলের লোকেরা মণিপুর চলে যাচ্ছে, উত্তর প্রদেশে চলে যাচ্ছে, কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুরে টিম পাঠাচ্ছেন না?’
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ‘কিছু লোক যাদবপুরে গণ্ডগোল করছে। কিন্তু হাজার হাজার বাবা-মা তাদের প্রতিভাশালী ছেলেমেয়ের ভাল চেয়ে ওখানে পড়াতে পাঠায়। সেটা কি করে দুষ্কৃতকারীদের দখলে চলে গেল? কেন মুখ্যমন্ত্রী চুপ করে থাকবেন? ওঁর দায়িত্ব নেই?
মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সব কিছুতেই তৃণমূল খারাপ আর তৃণমূল খারাপ! বাকি সবাই ভাল!’ যাদবপুরে মৃত ছাত্রের উপর নির্যাতনকারীদের সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ‘কারা এরা? মার্কসবাদী, কিছু আগমার্কা সিপিএম। এরা কখনও কংগ্রেসের সঙ্গে ঘর করেছে, কখনও বিজেপির সঙ্গে। মঙ্গলবার সেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মুখ খুলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন এই বিজেপি নেতা। তাঁর কথায়, ‘কলকাতার মতো যাদবপুরও আমাদের গৌরবের জায়গা।’
মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে দিলীপ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কে ভিসি হবে, না হবে তা নিয়ে চিন্তা থাকে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টা যে দুষ্কৃতকারীদের হাতে চলে গেল তার দায়িত্ব কে নেবে? বাবা-মা অনেক আশা নিয়ে ছেলেমেয়েদের ওখানে পড়তে পাঠায়। সেই প্রতিষ্ঠানকে উনি (পড়ুন মুখ্যমন্ত্রী) কিছু দুষ্কৃতকারী, দেশবিরোধী শক্তির হাতে ছেড়ে দেবেন? তারা একটি ছেলেকে প্রাণে মেরে দেবে, তবু মুখ্যমন্ত্রী কিছু বলবেন না!’
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির প্রশ্ন, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি শান্তি আসতে পারে, যাদবপুরে কেন আসছে না! ওখানেও একই শক্তি সক্রিয়। মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগডায় তুলে দিলীপ বলেন, যারা দেশের সংবিধান, নীতি মানে না, শিক্ষাঙ্গনকে নিয়ে যারা রাজনীতি করে, তাদের হাতে উনি ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ, ওঁর কিছু করার নেই। কিন্তু আমরা তো ওঁকেই প্রশ্ন করব? দিলীপের কথায়, জেএনইউর মতো যাদবপুরেও টুকরে টুকরে গ্যাং সক্রিয়। আলট্রা লেফট, নকশাল, যারা দেশের বারোটা বাজিয়ে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ধ্বংস করতে চাইছে।
