
উত্তর ২৪ পরগণা, ৬ সেপ্টেম্বর : লাখো ভক্ত সমাগমে জন্মাষ্টমীর পাশাপাশি বাবা লোকনাথের জন্মতিথি উদযাপনে রাস্তায় নামল ভক্তদের ঢল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ল দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের ভিড়। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে জেলায় উৎসবের মেজাজ।
এক সময় রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে যায় যশোর রোড। যানজট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ৩৪, ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক। কচুয়া ধামে যাওয়ার প্রধান রাস্তা টাকি রোডও স্তব্ধ হয়ে পড়ে প্রতিবছরের মতই। প্রশাসনের তরফ থেকে বাড়তি পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলিতে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হলেও তেমন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
লোকনাথ ভক্তদের পুণ্য তীর্থের উদ্দেশ্যে যাওয়ার রাস্তায় দু'পাশে জলছত্র করে ভক্তদের সেবা করতে দেখা যায় বহু মানুষকে। মধ্যমগ্রাম, সোদপুর রোড, ডাকবাংলো মোড়, চাঁপাডালি মোড়, রাত যত বেড়েছে তত বেড়েছে মানুষের ঢল। রাস্তায় আলোকিত করা হয় বিভিন্ন সংস্থার তরফ থেকে।
লোকনাথ ভক্তদের সেবা করতে বহু সেবায়েতকে দেখা যায় জল দিয়ে পা ধুয়ে দিতেও। পাশাপাশি এদিন গঙ্গার থেকে জল তুলে কাধে বাঁক নিয়েও বহু ভক্তদের দেখা যায় পায়ে হেঁটে চাকলা ধামের উদ্দেশ্যে যেতে। কেউ বাইক,আবার কেউ সাইকেল করে চলেছে।
লোকনাথ ভক্তদের এই পুণ্য তীর্থযাত্রায় ছোঁয়া লেগেছে আধুনিকীকরণেরও। ডিজে বাজিয়েও ভক্তদের উদ্দাম নৃত্যের সঙ্গে দেখা যায় তীর্থ ক্ষেত্রে পৌঁছতে। নানা রংয়ের রঙিন আলোতে ডিজে বাজিয়ে চলে এই যাত্রা। বাদ জাননি মহিলা শিশুরাও। উৎসবের মেজাজে এলাহি আয়োজনের মধ্যে দিয়েই চলে লোকনাথ ধাম যাত্রা। কয়েক লাখ ভক্তদের সামাল দিতে জেলা পুলিশও রাত জেগে রইল রাস্তায়।
বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ বাহিনী মোতায়েন রাখা হয় নিরাপত্তার কারণে। রাত থেকে লাইন দিয়ে চলে বাবা লোকনাথের মাথায় জল ঢালা ও বিশেষ আরাধনা চলে।চাকলা ধাম মন্দির কমিটির তরফ থেকে জানানো হয়ে, তার জন্যই রাখা হয় বিশেষ ব্যবস্থা। একই ব্যবস্থা রাখা হয় কচুয়া ধামেও। চলে বিশেষ পুজো পাঠও। বুধবার জল ঢেলে, পুজো দিয়ে ফিরবে ভক্তরা নিজ নিজ ঠিকানায়। মঙ্গলবার যেমন রাস্ত ভক্তদের ভিড়ে ঠাসা ছিল। বুধবার তেমনই থাকবে ট্রেন,বাসে চোখে পড়ার মত ভিড়।
