
কলকাতা, ১২ আগস্ট : স্বপ্নদ্বীপ কুণ্ডুর খুনের ঘটনায় শুক্রবারের পর শনিবারও যাদবপুর থানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন আধিকারিককে ডেকে পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনা বহুকাল ধরে চলে আসছে ক্যাম্পাসের ভিতরে। আর এতে মদত রয়েছে খোদ হস্টেলের বিভিন্ন আধিকারিকদেরও।
শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ যাদবপুর থানার পুলিশ সৌরভ চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। এরপর প্রায় রাত তিনটে পর্যন্ত তার জেরা চলে৷ শনিবারও একতরফা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সূত্র খবর, ছাত্রাবাসের সামনে চায়ের দোকানে স্বপ্নদীপের বাবা রামপ্রসাদ কুণ্ডুর সঙ্গে সৌরভের পরিচয়। কয়েক মিনিটের আলাপেই নদিয়ার বগুলার ছেলে স্বপ্নদীপকে যাদবপুরের মেন হস্টেলে রাখতে রাজি হয়ে যান যাদবপুরের ওই প্রাক্তনী তথা হস্টেলের ‘দাদা’ বলে পরিচিত সৌরভ চৌধুরী। এমনকী, হস্টেলের একটি ঘরে যে একজন প্রথম বর্ষের ছাত্র এসে থাকছেন, সেই তথ্য আদৌ কর্তৃপক্ষ জানত না বলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তথা হস্টেলের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
যাদবপুরের হস্টেলের তিনতলা থেকে লাফ দিয়ে মৃত স্বপ্নদীপ কুণ্ডুকে ‘খুনে’র অভিযোগে পুলিশ পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা রোডের বাসিন্দা সৌরভ চৌধুরীকে যাদবপুর থানায় ডেকে জেরার পর গ্রেফতার করে পুলিশ।
রবিবার হস্টেলে যাওয়ার পরই ছেলে বাবাকে জানান, তিনি খুব চাপে রয়েছেন। বুধবার রাত ন’টা নাগাদ ছেলে বলেন, তাঁর খুব ভয় করছে। তাঁকে হস্টেল থেকে এখনই নিয়ে যেতে। মাকে বলেন, অনেক কথা আছে।
রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ মাকে ফোন করে অন্য এক ছাত্র জানান, স্বপ্নদীপ উপর থেকে পড়ে গিয়েছেন। রামপ্রসাদ কুণ্ডু অভিযোগপত্রে লেখেন, ‘‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস সৌরভের নেতৃত্বে হস্টেলের অন্যান্য ছেলেরা আমার বড় ছেলের উপর অত্যাচার করে হস্টেলের উপর থেকে নিচে ফেলে মেরে দেয়। আমি ওদের বিরুদ্ধে আইনত কঠোর ব্যবস্থা চাই।’’এরপর সৌরভকে জেরা করলে তাঁর বক্তব্যে বেশ কিছু অসংগতি উঠে আসে। তাই তাঁকে প্রথমে আটক, পরে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জেনেছে, চায়ের দোকানেই সৌরভ রামপ্রসাদকে বলেন, হাজার টাকা দিলেই ছেলে থাকতে পারবেন হস্টেলে। অথচ ছাত্রাবাসের সুপার তপন জানা পুলিশকে জানান, স্বপ্নদীপের নাম হস্টেলের রেজিস্ট্রার খাতা বা আবাসিকদের তালিকায় নেই। ওই ছাত্রের হস্টেলে থাকার ব্যাপারে তাঁরা কেউ জানেন না।
