
কলকাতা, ২৭ এপ্রিল : উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের রিপোর্ট তলব করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সূত্রের খবর পুলিশের রিপোর্ট পেয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে নারাজ বলেও জানা গিয়েছে।
ছাত্রী মৃত্যুতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এমনিতেও তপ্ত ছিল পরিবেশ। এরপর ‘পুলিশের গুলিতে’ রাজবংশী যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। বুধবারই নবান্নে বসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কালিয়াগঞ্জে ‘থানা পোড়ানো’ ও ‘পুলিশকে মারার’ ঘটনায় প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ করবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বলেছি, যারা দোষী, দলমত দেখার দরকার নেই, স্ট্রেট অ্যারেস্ট করুন। তাদের প্রপার্টি বাজেয়াপ্ত করতে বলেছি। যেটা ইডি করে। এই আইন আমরাও করেছি। তা না করলে, তাদের গুন্ডাগিরি কমছে না।”
এরপরই রাত ২টো নাগাদ কালিয়াগঞ্জের রাধিকাপুর গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে বিষ্ণু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে যায় পুলিশ। কিন্তু বাড়িতে বিষ্ণু ছিলেন না। তাঁকে না পেয়ে পুলিশ তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময়ে ওই ব্যক্তির জামাই এসে বাধা দেন। পিছনেই ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় বর্মন, যাঁর মৃত্যুতে হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুঞ্জয় সামনে এসে রুখে দাঁড়ান। আদতে মৃত্যুঞ্জয় কর্মসূত্রে ১৫-২০ বছর ধরে শিলিগুড়িতে থাকেন। বিয়ে বাড়িতে ভোজ খেতে এসেছিলেন।
পরিবারের দাবি, তিনি এই অশান্তির ঘটনায় কোনওভাবেই জড়িত ছিলেন না। বৃহস্পতিবারই তাঁর চলে যাওয়ার কথা ছিল। পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার ও গ্রামবাসীরা। গোটা পরিস্থিতির ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন রাজ্যপাল। যদিও এই ঘটনায় পুলিশের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
