
কলকাতা, ৪ জুলাই : শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি কুন্তল ঘোষের সঙ্গে যোগ সূত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন। টানা ১১ ঘণ্টা প্রশ্নোত্তর পর্বের পরও আত্মবিশ্বাসের সুরে তদন্তে সহযোগিতার কথা জানিয়েছিলেন যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ।
ফের বুধবার তাঁকে তলব করেছে ইডি। এসবের জেরে আপাতত পঞ্চায়েত ভোটের প্রচার থেকে খানিকটা দূরে ছিলেন সায়নী। মঙ্গলের প্রচারকারীদের তালিকায় তাঁর নাম রেখেছিল তৃণমূল। কিন্তু মায়ের শরীর খারাপ জানিয়ে পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে গেলেন না অভিনেত্রী-নেত্রী সায়নী ঘোষ।
নির্বাচনের আগে শেষ সপ্তাহান্তের প্রচারে ছিলেন না। সোমবারও তাঁকে প্রচার করতে দেখা যায়নি। যার জেরে এই জল্পনাও উসকে উঠেছিল, তবে কি দল তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে? কিন্তু সেসব জল্পনা একেবারে উড়িয়ে মঙ্গলবার থেকে ফের প্রচারে ফেরার কথা জানান সায়নী। বলেন, কাটোয়া ১ ও ২ নং ব্লক এলাকায় দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচার সারবেন যুব তৃণমূল সভানেত্রী।
মঙ্গলবার সকালে তালিকায় তাঁর নাম থাকার পর অনেকেই কৌতূহলী হয়েছিলেন সায়নী প্রচারে গিয়ে কী বলেন, তা জানার জন্য। কিন্তু দুপুরের আগে জানানো হয়, মায়ের অসুস্থতার কারণে সায়নী প্রচারে যেতে পারবেন না বলে দলকে জানিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন, বুধবার ইডির দফতরে সায়নী যাবেন কি?
ইডি সূত্রের খবর, সায়নীকে সংস্থার তরফে ডাকা হয়েছে কিছু নথিপত্র সংক্রান্ত প্রশ্ন করতে। ‘অভিযুক্ত’ হিসেবে নয়। বুধবারেও তাঁর কিছু নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার কথা। ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতি’-তে সায়নী নিজে সেই নথি নিয়ে যাবেন, না কি তাঁর আইনজীবী মারফত নথি পাঠাবেন, তা মঙ্গলবার পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
ইডির আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, সায়নী নিজে না-আসতে পারলেও তিনি সেটি লিখিত ভাবে তদন্তকারী সংস্থাকে জানাতে পারেন।
ছ’দিন পর মঙ্গলবার আবার পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে নামার কথা ছিল সায়নীর। গত শুক্রবারের পর আগামী বুধবার ফের তাঁকে জেরার জন্য তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তার ঠিক এক দিন আগে তাঁকে তৃণমূলের হয়ে পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারে অংশ নিতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রচারকারীদের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে নাম ছিল এই অভিনেত্রীর। মঙ্গলবার তাঁর প্রচার করার কথা ছিল পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের করাজগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত ও সিংহী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ঘটনাচক্রে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে পূর্ব বর্ধমান জেলারই মন্তেশ্বরের শেষ বার প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
শুক্রবার ইডির জেরার পর মাঝের কয়েক দিন সায়নীকে প্রচারকারীদের তালিকা থেকে বাদ রেখেছিল তৃণমূল। কিন্তু যে দিন সায়নীকে আবার ডেকেছে ইডি, তার আগের দিন তাঁকে প্রচারে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল দল। তৃণমূলের অন্দরে যা নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছিল। যে আলোচনার নির্যাস— তাঁকে প্রচারে পাঠিয়ে দলের শীর্ষনেতৃত্ব সায়নীকে এই বার্তাই দিতে চাইছেন যে, তাঁরা তাঁর পাশে আছেন।
পাশাপাশিই অনেকের বক্তব্য, সায়নী নিজে নিশ্চিত যে, তাঁকে নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িয়ে ফেলা যাবে না। তিনি দলকেও তা জানিয়েছেন। ইডির জেরার পরেও তাঁকে আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে। ফলে তাঁকে প্রচারে না-পাঠানোর কোনও কারণ নেই। দলের অনেকে বলছেন, পঞ্চায়েত ভোটের আগে সায়নীকে ডেকে জেরা করে ইডি তথা কেন্দ্রীয় সরকার যে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ করছে, সেটা জনতাকে বোঝাতে হবে। অর্থাৎ, বিজেপির উপর ‘পাল্টা চাপ’ তৈরি করা।
