
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ কেন্দ্রীয় সরকারের হারে ডিএ-র দাবিতে যখন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা সরব, তখন নতুন বার্তা দিলেন মমতা।সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ডিএ ‘বাধ্যতামূলক’ নয়, ‘ঐচ্ছিক’।সাথে আরো যুক্ত করেন রাজ্যের কাছে পর্যাপ্ত টাকা থাকলে ভালবেসেই তিনি বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দিতেন। সোমবার বেশ বিরক্তির স্বরেই তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সরকারের হারে ডিএ-র দাবিদারদের বললেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি খুঁজে নিন না, তা হলে আরও বেশি বেতন পাবেন, আরও বেশি ডিএ পাবেন। আমাদের রাজ্য সরকারের চাকরিতে যখন ঢুকেছেন, তখন এখানে যা নিয়মকানুন রয়েছে সেই মতো করছি।’’
সরকারি কর্মচারীদের একাংশ কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে সরব অনেক দিন ধরেই। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। তারই মধ্যে মমতা এ দিন কেন্দ্রীয় সরকারি এবং রাজ্য সরকারি চাকরির মধ্যে কোথায় ফারাক তা নিয়েও মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, ‘‘যিনি কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি করেন তাঁর অর্থনৈতিক পলিসি আলাদা। সার্ভিস রুল আলাদা। যিনি রাজ্য সরকারের চাকরি করেন তাঁর সার্ভিস রুল আলাদা।’’ এর পরেই তিনি বলেন, ‘‘যান না, কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরি খুঁজে নিন না, তা হলে আরও বেশি বেতন পাবেন, আরও বেশি ডিএ পাবেন।’’
রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘‘আমাকে দুর্বল মনে করার কারণ নেই। আমি দুর্বল মানুষ নই। আমি এখনও আপনাদের পুরো পক্ষে। আপনাদের অধিকার নয়, তবুও ১২৬ শতাংশ ডিএ দিয়েছে। ষষ্ঠ পে কমিশনের টাকাও দিয়ে দিয়েছি।’
সম্প্রতি রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা কর্মবিরতি এবং ধর্মঘট পালন করেছেন। সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া ডিএ নিয়ে চলছে মামলাও। বার বার শুনানি পিছিয়ে গেলেও আন্দোলন চলছে। চলতি বছরের রাজ্য বাজেট পেশের দিনেই ৩ শতাংশ হারে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করে সরকার। মার্চ মাসের বেতন থেকে তা দেওয়াও শুরু হয়েছে। রাজ্যের অর্থাভাবের কথা উল্লেখ করে মমতা অতীতে বলেছিলেন, ‘‘আমরা তো ম্যাজিশিয়ান নই। টাকাটাও জোগাড় করতে হবে। অনেকে বলে, এটা পেলাম, ওটা দাও, এটা পেলাম, ওটা দাও। আরে যেটা পেলে সেটাকে ধরে রাখতে গেলে যে টাকার প্রয়োজন সেটা কোথা থেকে জোগাড় হবে? কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দিচ্ছে না। বঞ্চনা করছে আর মিথ্যা কথা বলছে।’’
এদিন মমতা কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যের প্রাপ্য টাকা না মেতানোর দাবীতে তীব্র আক্রমন ও করেন। তিনি বলেন- “তিন শতাংশ ডিএ তো দিয়েছি। যান না কেন্দ্রের থেকে রাজ্যের বকেয়া টাকা উদ্ধার করে আনুন। ১ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজ্যের বকেয়া পাওনা রয়েছে। ওই টাকা নিয়ে এলে আরও ৩ শতাংশ ডিএ বাড়িয়ে দেব।”
