
কলকাতা, ১২ অক্টোবর : ২০২১ সালেই বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্যকে বলেজিল দুর্গাপুজোয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনসংযোগে জোর দিতে। প্রথম বছর এই দায়িত্ব মূলত ছিল মুকুল রায়ের হাতে। চরম ব্যর্থতার পর এ বছরেও এই নির্দেশ এসেছে বিজেপি-র দলীয় নেতৃত্বের কাছে। তবে দিল্লিতে আর্জি জানিয়েও এ ব্যাপারে অমিত শাহকে পাওয়া যাচ্ছে না। ষষ্ঠীতে রাজ্যে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা।
বিজেপি সূত্রে খবর, প্রাথমিক ভাবে দলীয় নেতৃত্ব চেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দুর্গাপুজোর সময় রাজ্যে নিয়ে আসতে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। শেষমেশ নড্ডা আসবেন বলে স্থির হয়েছে।
সজল ঘোষ ও তাঁর বাবা প্রদীপ ঘোষের নাম জড়িয়ে থাকা মধ্য কলকাতায় সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজোই এখন বিজেপির একমাত্র পুজো বলে পরিচিত শহরে। ২০২১ সালে এই পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। গত বছর উদ্বোধন করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বিজেপি সূত্রে খবর, এ বার সজলদের পুজোয় আসছেন নড্ডা।
এ ছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় সভাপতির ঘুরে দেখার কথা উত্তর কলকাতার বেশ কয়েকটি পুজো। তবে নড্ডা শহরের কোন কোন পুজোয় যাবেন, তার চূড়ান্ত তালিকা এখনও তৈরি হয়নি। দলের তরফে এই বিষয়টি দেখছেন উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ।
কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় দুর্গোপুজোর আয়োজনে শাসক তৃণমূলের একচেটিয়া উপস্থিতিতে ভাগ বসাতে অনেক দিন ধরেই পরিকল্পনা করছে বিজেপি। তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, মেয়র পারিষদ ও বিধায়ক দেবাশিস কুমারদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শহরের পুজোর আয়োজন। ছোটখাটো পুজো কমিটিগুলিও নানা ভাবে তৃণমূল নেতাদের হাতেই রয়েছে। শাসকদলের এই পুজোর ময়দানে সিঁদ কাটতে চায় গেরুয়া শিবির।
বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী বছর লোকসভা ভোট রয়েছে। তার আগে আবার রাজ্যের দুর্গাপুজোয় দলীয় প্রভাব বৃদ্ধির কথা ভাবা হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলা হয়। রাজ্য নেতৃত্ব চেয়েছিলেন, এ বার শাহ আসুন শহরে। কিন্তু সামনেই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোট থাকায় রাজ্য বিজেপির সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। পরিবর্তে আসছেন নড্ডা।
