
কলকাতা, ১৫ মে : এক ধাক্কায় ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানানো হয় পর্ষদের তরফে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে জরুরি শুনানি অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতির সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ।
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় গত শুক্রবার ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে পর্ষদ। চলতি সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আদালত থেকে জানা গিয়েছে।
চাকরি বাতিলের সেই রায়ে সংশোধনী চেয়ে সোমবার বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন মামলাকারীদের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি আদালতে জানান, অপ্রশিক্ষিত প্রার্থীর সংখ্যা ৩৬ হাজার নয়। ওটা হবে ৩০ হাজার ১৮৫। ‘টাইপোগ্রাফিক্যাল’ ভুল হয়েছে। সেই রায় সংশোধনের আর্জি জানান মামলাকারীদের আইনজীবী। মঙ্গলবার এই বিষয়টি নিয়ে শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রিয়ঙ্কা নস্কর-সহ ১৪০ জন চাকরিপ্রার্থী ২০১৬ সালের প্রাথমিকে নিয়োগ নিয়ে মামলা করেন। তাঁদের আইনজীবী তরুণজ্যোতি আদালতে জানান, এই মামলাকারীদের থেকে কম নম্বর পেয়ে প্রশিক্ষণহীন অনেকেই চাকরি পেয়েছিলেন। এই মামলাতেই উঠে আসে সাক্ষাৎকার বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, নিয়ম অনুযায়ী সাক্ষাৎকারে অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট নেওয়ার কথা থাকলেও বহু ক্ষেত্রে তা নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন জেলায় যাঁরা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, তাঁদের তলব করে গোপন জবানবন্দিও নথিবদ্ধ করেছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তার ভিত্তিতেই চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন বিচারপতি।
