
কলকাতা, ৯ ডিসেম্বর : ব্যাংকিং, প্রতিরক্ষা, বিমান চলাচল, বিদ্যুৎ এবং পরিবহন খাতে ক্রমেই বাড়ছে সাইবার আক্রমণের আশঙ্কা। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে এই সব ক্ষেত্র। সমাধানের পথ খুঁজতে এবং সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে চর্চার লক্ষ্যে কলকাতায় বসছে জাতীয় পর্যায়ের সম্মেলন ‘ইন্ডোক্রিপ্ট’। ১১-১৪ ডিসেম্বর বসবে বিজ্ঞানীদের এই আসর। প্রস্তাবিত সম্মেলনের উদ্যোক্তা ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইন্সটিট্যুট, আর সি বোস সেন্টার ফর ক্রিপ্টোলজি অ্যান্ড সিকিউরিটি এবং টিসিজি (সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যাণ্ড এডুকেশন ইন সায়েন্স অ্যাণ্ড টেকনোলজি)। সহযোগিতায় থাকছে ক্রিপ্টোলজি রিসার্চ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া (সিআরএসআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্রিপ্টোলজিক রিসার্চ (আইএসিআর)।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ক্রিপ্টোলজি শব্দটি এসেছে দুটি গ্রীক শব্দ ‘ক্রিটোজ’ এবং ‘লগিয়া’ থেকে। যাদের অর্থ যথাক্রমে গোপন এবং অধ্যয়ন। তাহলে ক্রিপ্টোলজি শব্দের অর্থ হল গোপন কিছু নিয়ে অধ্যয়ন করা। আর এই গোপন সংকেতের অর্থ উদ্ধারের বিষয়টিকে বলা হয় ক্রিপ্টোঅ্যানালিসিস। বিষয়টি বুঝতে হলে কোড এবং সাইফার শব্দ দুটির মাঝে পার্থক্যটা জানা দরকার। কোড হল গোপনে বার্তা পাঠানোর এমন একটি পদ্ধতি যেখানে একটি শব্দকে আরেকটি শব্দ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। আর সাইফারে কাজটি করা হয় প্রতিটি বর্ণকে ধরে ধরে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত শীর্ষ পাঁচটি ক্রিপ্টোগ্রাফি সম্মেলনের মধ্যে রয়েছে ‘ইণ্ডোক্রিপ্ট’। এর চেয়ারম্যান, টিসিজি ক্রেস্ট-এর পরামর্শদাতা এবং আইএসআই-এর প্রাক্তন ডিরেক্টর বিমল রায় এই প্রতিবেদককে বলেন, “কলকাতা ক্রিপ্টোলজি চর্চা বা সচেতনতায় দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় অনেক এগিয়ে। তবে এ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে৷ সল্ট লেকে বোস ইন্সটিট্যুটে হবে এই ‘ইণ্ডোক্রিপ্ট’।“ বিজ্ঞানীদের অনেকে মনে করেন,
“কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে অগ্রগতির সাথে, বিভিন্ন সেক্টরে ডেটা সুরক্ষার জন্য ক্রিপ্টোলজিকে দেশীয়ভাবে তৈরি করতে হবে। অন্যথায়, ফলাফল বিপর্যয়কর হবে”। টিসিজি ক্রেস্টের কর্মকর্তা (চিফ ডেভলপমেন্ট অফিসার) জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, “সরকারের উচিত ক্রিপ্টোলজির বিকাশের জন্য একটি ইকোসিস্টেমে কাজ করা। যাতে ১০ বছরের মধ্যে ভারত স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে। সরকারের পাশাপাশি বড় কর্পোরেটদের এ বিষয়ে গবেষণার জন্য অর্থায়নের জন্য এগিয়ে আসা উচিত"।
