
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বিশ্বের চরিদিকে যেন একটা মৃদু যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। মূলত রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করেই এই নতুন পরিস্থিতি। একদিকে আমেরিকা ও পশ্চিমী দেশগুলো আর অন্যদিকে রাশিয়া ও চিন। ঠিক এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে চিনের ভূমিকা বেশ জোরালোভাবে দেখা যাচ্ছে। নিঃসন্দেহে ওয়াশিংটনের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে চিনের মধ্যস্থতায় গত মার্চে প্রতিন্দ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সাথে চিনের সম্পর্ক বাণিজ্য, অর্থনীতি ও বিনিয়োগকে ঘিরে। তবে গত কয়েক বছরে চিন তার রাজনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে কূটনৈতিক এজেন্ডাকেও শক্তিশালী করতে ক্রমবর্ধমান আগ্রহ প্রকাশ করছে।
চিন এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশের মধ্যে অনেকটা বিবেকের ভূমিকা নিয়েছে।
চিনের মধ্যস্থতায় দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে গত ১০ মার্চ স্বাক্ষরিত এক চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ সাত বছরের বৈরিতার অবসান ঘটায় মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ ইরান ও সৌদি আরব। এবার সেই বেইজিংয়েই বৈঠক করেছেন দুই মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মধ্যপ্রাচ্যের সাথে চিনের সম্পর্ক বাণিজ্য, অর্থনীতি ও বিনিয়োগকে ঘিরে। তবে গত কয়েক বছরে চিন তার রাজনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে কূটনৈতিক এজেন্ডাকেও শক্তিশালী করতে ক্রমবর্ধমান আগ্রহ প্রকাশ করছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শি জিনপিং যখন রিয়াদ সফর করেন, তখন তাকে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে মধ্যস্থতা করতে এবং আলোচনাকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে বলা হয়েছিল। এটিকে গ্লোবাল সাউথের একটি সহজ জয় হিসাবে গ্রহণ করে, চিন মধ্যস্থতা করতে সম্মত হয়েছে এবং আমরা কয়েক মাস পর তাদের শ্রমের ফল দেখতে পাচ্ছি।
চিনের এই নতুন ভূমিকায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ব রাজনৈতিক মহলে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চিন ও রাশিয়া বিশ্বে নতুন মেরুকরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ তাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার চিন্তাভাবনা করছে। কিন্তু সৌদি আরবের মতো দেশ যখন চিনের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, তখন বিষয়টি গুরুত্বের দাবি রাখে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করার মতো অবস্থায় এখনো না গেলেও চিন ধীরে ধীরে সেই পথে হাঁটছে কি না—এই প্রশ্নও উঠছে।
