
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ আঙুলে চোট নিয়ে রণজি ট্রফির সেমিফাইনালে শতরান বাংলার অনুষ্টুপ মজুমদারের। বুধবার, ইনদৌরে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে চায়ের কিছু পরেই শতরান করেন বাংলার এই ব্যাটার। এই মরশুমে এটা তাঁর তৃতীয় শতরান। মূলত অনুষ্টুপ ও সুদীপের ব্যাটের উপর ভর করেই কার্যত ম্যাচে ফেরে বাংলা। কারণ, টস জিতে ব্যাট করতে নেমে খুব অল্প রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে দিল মনোজ তিওয়ারির দল।
এর আগে রণজি ট্রফির সেমিফাইনালে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে শুরুটা ভাল হয়নি বাংলার। এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলা। খুব দ্রুতই ফিরে যান করণ লাল এবং অভিমুন্য ইশ্বরণ। ইনদৌরে এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলার অধিনায়ক ও রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি। গৌরব যাদবের বলে প্রথমে আউট হন অভিমুন্য। এরপর অনুভব আগরওয়ালের বলে আউট হন করণ। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ইংনিস মজবুত করার লক্ষ্যে এখন লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল।
বাংলার ওপেনাররা ভাল শুরু করলেও, আচমকাই ঘনিয়েছিল উদ্বেগের মেঘ। ৪ বলের ব্যবধানে ছিটকে গিয়েছিল দুই ওপেনারের স্টাম্প। প্রথমে অভিমন্যু ঈশ্বরণ। গৌরব যাদবের বলের লাইন ফস্কে বোল্ড হন অভিমন্যু। ৩৩ বলে ২৭ রান করে। তার ৪ বল পড়েই কার্যত একই কায়দায় বোল্ড হন কর্ণ। অনুভব অগ্রবালের বলের লাইন ফস্কে। ৪৫ বলে ২৩ রান করেন কর্ণ। টস জিতে প্রথম ব্যাটিং করে বিনা উইকেটে ৫০ রান থেকে এক সময় ৫১/২ হয়ে গিয়েছিল বাংলা।
কিন্তু সেখান থেকে বাংলা ইনিংসকে টেনে তুলেছেন কার্যত দুই প্রজন্মের দুই ব্যাটার। অভিজ্ঞ অনুষ্টুপ মজুমদার ও তরুণ তুর্কি সুদীপ ঘরামি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে বাংলার স্কোর ১১১/২। ৫৫ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত সুদীপ। ৫৯ বলে ২৪ রানে ক্রিজে অনুষ্টুপ। অবিচ্ছেদ্য তৃতীয় উইকেট পার্টনারশিপে ১১২ বলে ৬০ রান যোগ করেছেন দুই ক্রিকেটার।
তবে ক্রিজে একবার প্রাণরক্ষা হয়েছে সুদীপের। ব্যক্তিগত ২৬ রানের মাথায় সারাংশ জৈনের বলে খোঁচা দিয়েছিলেন নৈহাটির ক্রিকেটার। কিন্তু প্রথম স্লিপে তাঁর ক্যাচ ফেলে দেন রজত পাতিদার।
পরপর তিনবার। রঞ্জি ট্রফি সেমিফাইনালে খেলারর হ্যাটট্রিক করল বাংলা। যদিও ট্রফি প্রত্যেকবার অধরাই থেকে গিয়েছে। এবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মনোজ তিওয়ারিদের প্রতিপক্ষ মধ্যপ্রদেশ। যারা গতবারের চ্যাম্পিয়ন। এবং তার চেয়েও বড় কথা, মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে হেরেই গতবার শেষ চার থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল বাংলাকে।
