
কলকাতা, ১৬ ফেব্রুয়ারি : আজ থেকে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শুরু রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল। মুখোমুখি বাংলা ও সৌরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ইডেন বেল বাজিয়ে ইনিংসের সূচনা করলেন বাংলার শেষ রঞ্জিজয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। টসে জিতে বাংলাকে ব্যাট করতে পাঠাল সৌরাষ্ট্র। সবুজ পিচে মনোজদের স্বাগত জানালেন উনাদকাট, সাকারিয়ারা। তবে উনাদকাট-সাকারিয়াদের আগুনে পেসে বাংলার ব্যাটিং বিপর্যয় একসময় ১৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলা দল প্রথম ইনিংসে ৫০ ওভারের খেলা পূর্ণ করে।বর্তমানে চায়ের বিরতি চলছে এপর্যন্ত বাংলার সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৬৬ রান।
আগাগোড়া দাপট দেখিয়ে চলতি রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে ওঠে বাংলা ও সৌরাষ্ট্র। এবার শেষ হার্ডলে কোন দল প্রতিপক্ষকে টেক্কা দেয়, সেটাই হবে দেখার। এর আগে ২০১৯-২০ মরশুমের রঞ্জি ফাইনালে সম্মুখসমরে নামে দু'দল। সেই ম্যাচে বাংলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সৌরাষ্ট্র। এবার ঘরের মাঠে বাংলার সামনে সুযোগ রয়েছে বদলা নেওয়ার। সেই সঙ্গে ৩৩ বছর পরে রঞ্জি খেতাব ঘরে তোলার হাতছানিও রয়েছে মনোজ তিওয়ারিদের সামনে।
রঞ্জি ফাইনালের মত মঞ্চে বাংলার জার্সিতে অভিষেক হল সুমন্ত গুপ্তর। সারা মরসুম যে ওপেনিং সমস্যা ভুগিয়েছে, ফাইনালেও সেই ওপেনিং সমস্যা পিছু ছাড়ল না। উনাদকাট, সাকারিয়াদের আগুনে পেসে ছারখার বাংলার টপ অর্ডার। প্রথম ওভারেই আউট অভিমন্যু ঈশ্বরন। কোনও রান না করে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ঈশ্বরন। পরের ওভারে বল করতে এসে দুটো উইকেট তুলে নেন চেতন সাকারিয়া। আইপিএলের আসরে রাজস্থান, দিল্লির হয়ে আগুন ঝরিয়েছেন। ইডেনে রঞ্জির ফাইনালেও সুমন্ত, সুদীপদের চোখে সর্ষে ফুল দেখিয়ে ছাড়লেন সাকারিয়া। সুদীপ ঘরামি আউট শূন্য রানে। নবাগত সুমন্ত ফিরলেন ব্যক্তিগত ১ রানে। রঞ্জি ফাইনালের মতো আসরে কেন সুমন্তর মতো নবাগতকে খেলাল টিম ম্যানেজমেন্ট তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি আউট হলেন ৭ রানে। রাউন্ড দ্য উইকেটে বল করতে এসেই মনোজকে প্যাভিলিয়নে পাঠালেন সৌরাষ্ট্রের অধিনায়ক উনাদকাট। ইডেনের বাইশ গজ তাঁর কাছে অত্যন্ত পরিচিত। কেকেআরে খেলার সুবাদে ভালোই জানেন নন্দনকাননের উইকেটের চরিত্র। আর তাতেই ফেরত পাঠালেন একদা সতীর্থকে। সারা মরসুমে বাংলাকে ভরসা জোগানো অনুষ্টুপ মজুমদারও ব্যাট হাতে ব্যর্থ। এ দিনও শুরুটা ভালো করেছিলেন রুকু। চিরাগ জানির বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৬ রানে ফিরে যান অনুষ্টুপ। প্রদীপ্ত প্রামাণিকের জায়গায় রঞ্জি ফাইনালে খেলতে নামা আকাশ ঘটক আউট হলেন ব্যক্তিগত ১৭ রানে। তাঁকে ফেরালেন সাকারিয়া। প্রথম দিনে বাংলা লাঞ্চের আগে ২৮ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ৭৮ রান সংগ্রহ করেছে। ৪৮ বলে ২৬ রান করেন শাহবাজ আহমেদ। মেরেছেন ৫টি চার। ১৭ বলে ৫ রান করেন অভিষেক পোড়েল। তিনি ১টি চার মেরেছেন।
এরপর শাহবাজ ও অভিষেক এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন বাংলার স্কোর। ৪৮তম ওভারে দলগত ১৫০ রানের গণ্ডি টপকে যায় বাংলা। তবে এরপরই ঘটে ছন্দপতন । ৫০.৬ ওভারে ধর্মেন্দ্রসিং জাদেজার বলে বিশ্বরাজের হাতে ধরা পড়েন শাহবাজ আহমেদ। শাহবাজের গ্লাভস ছুঁয়ে প্যাডে লাগার পরে বল শর্ট লেগ ফিল্ডারের হাতে জমা পড়ে। শাহবাজ রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। ১১২ বলে ৬৯ রান করে মাঠ ছাড়েন শাহবাজ। তিনি ১১টি চার মারেন। বাংলা প্রথম ইনিংসে ১৬৬ রানের মাথায় ৭ উইকেট হারায়। শাহবাজ আউট হওয়া মাত্রই চায়ের বিরতি ঘোষিত হয়। অভিষেক পোড়েল ৪৭ রানে ব্যাট করছেন। ৯২ বলের ইনিংসে তিনি ৮টি চার মেরেছেন। উনাদকাট ২টি উইকেট নিয়েছেন। সাকারিয়া ৩টি উইকেট নিয়েছেন। ১টি উইকেট নিয়েছেন চিরাগ জানি। ধর্মেন্দ্রসিং নিয়েছেন ১টি উইকেট।
প্রসঙ্গত, শেষ বার ১৯৮৯-৯০ মরসুমে রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলা। এর পর থেকে কয়েক বার ফাইনালে উঠলেও রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এ বার ঘরের মাঠে ফাইনাল। প্রত্যাশা সে কারণেই বেশি। তিন বছর আগে এই সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই ফাইনাল খেলেছিল বাংলা। যদিও সেটা অ্যাওয়ে ম্যাচ। সেই দলের অনেকেই রয়েছেন বর্তমান দলেও। এক দিকে তাঁদের কাছে বদলার ম্যাচ। অন্য দিকে, একটা গর্বের মুহূর্ত উপহার দেওয়ার। অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারির এটিই শেষ মরসুম। ট্রফি জিতেই অবসর নিতে চান, সেই লক্ষ্যেই যাত্রা শুরু আজ থেকে। ইডেন গার্ডেন্সে ইতিহাস গড়াল লক্ষ্যে বাংলা শিবির। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত কি হয় ।
বাংলার একাদশ- মনোজ তিওয়ারি, অভিমন্যু ঈশ্বরণ, সুমন্ত গুপ্ত, সুদীপ কুমার ঘরামি, অনুষ্টুপ মজুমদার, অভিষেক পোড়েল, শাহবাজ আহমেদ, আকাশ ঘটক, আকাশ দীপ, মুকেশ কুমার, ঈশান পোড়েল।
সৌরাষ্ট্র একাদশ- জয়দেব উনাদকাট, অর্পিত বাসভরা, শেল্ডন জ্যাকসন, হার্ভিক দেশাই, প্রেরক মানকড, চিরাগ জনি, ধর্মেন্দ্র জাডেজা, চেতন সাকারিয়া, বিশ্বরাজ সিং জাডেজা, জয় গোহিল, পার্থ ভুত
