
নয়াদিল্লি, ১৮ জানুয়ারি : দ্যুতি চাঁদের বিরুদ্ধে এ বার ডোপিংয়ের অভিযোগ। ভারতের তারকা অ্যাথলিট এবং ১০০ মিটার দৌড়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন দ্যুতিকে আপাতত সাসপেন্ড করা হয়েছে।দ্যুতির মূত্রের নমুনা পরীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে নিষিদ্ধ সিলেক্টিভ অ্যান্ড্রোজেন রিসেপটর মডিউলেটরস। যা পারফরম্যান্স বাড়াতে সাহায্য় করে। দ্যুতি যদি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে না পারেন, তা হলে তাঁর সমস্যা আরও বাড়বে। বড় ধরনের নির্বাসনের মুখে পড়তে হতে পারে দ্যুতিকে। স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ভারতীয় ক্রীড়া মহলে।
জানা গিয়েছে, গত বছর ন্যাশনাল গেমসের সময় দ্যুতির নমুনায় নিষিদ্ধ ড্রাগের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। ডিসেম্বর মাসে সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরেই দ্যুতিকে সাসপেনশনের নোটিস ধরিয়েছে নাডা। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিনে একাধিক ভারতীয় খেলোয়াড় ডোপ টেস্টের দায়ে নির্বাসিত হয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন দীপা কর্মকারের মত তারকারাও। নাডার তরফে জানানো হয়েছে, সার্স এস৪ অ্যান্ডারিন-সহ একাধিক রকমের নিষিদ্ধ ড্রাগ পাওয়া গিয়েছে দ্যুতির নমুনায়। মূলত শরীরে পুরুষালি প্রভাব বাড়াতেই এই ধরণের ড্রাগ নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ন্যাশনাল গেমসের ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিয়েছিলেন দ্যুতি। সেই সময়েই র্যান্ডম ডোপ টেস্টে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। যদিও সেই প্রতিযোগিতায় একেবারেই দাগ কাটতে পারেননি এশিয়ান গেমসে একাধিক পদকজয়ী।
তবে দ্যুতির সামনে এখনও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে। তাঁর প্রথম স্যাম্পেলে ডোপের প্রমাণ রয়েছে। এরপর দ্বিতীয়বার তাঁর নমুনা পরীক্ষার আবেদন জানাতে পারেন তারকা অ্যাথলিট। সেখানে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাঁর সাসপেনশন তুলে নেওয়া হবে। তবে যতদিন পর্যন্ত প্রমাণ না হচ্ছে, ততদিন কোনও প্রতিযোগিতায় নামতে পারবেন না দ্যুতি।
দ্যুতি বলেছেন, ‘আমি প্রায় এক দশক ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি এবং আমি কখনও-ই কোনও ধরনের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ স্পর্শ করিনি বা ব্যবহার করিনি। আমাকে যখনই বলা হয়েছে, আমার নমুনা দিয়েছি। ২০১৪ সালে হাইপারঅ্যান্ড্রোজেনিজম মামলার কারণে আমাকে দৌড়ানোর অধিকারের জন্য লড়াই করতে হয়েছিল এবং এখন সেই অধিকার পেয়েছি। আমার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা জানাতে আমাকে প্রথমে চিঠিটি দেখতে হবে।’
এর পর তিনি যোগ করেন, ‘আমি এখনও ডোপিং এজেন্সি বা ফেডারেশন থেকে কোনও চিঠি পাইনি। আমি কেবল মিডিয়ার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পেরেছি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চিঠি ঘোরাফেরা করছে।’
