
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশের নাগালে থাকা জয় প্রতিপক্ষ শেষ মুহূর্তের ঝলকে কেড়ে নিয়েছে— এমন ঘটনা অতীতে বেশ কয়বারই দেখা গেছে। জিততে জিততে হেরে যাওয়ার বেদনায় পুড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। কিন্তু চেমসফোর্ডে কাল আয়ারল্যান্ডকেই সেই যন্ত্রণায় পুড়িয়েছে তামিমের দল। ২৭৪ রান তাড়ায় শেষ ৫৪ বলে ৫২ রান দরকার ছিল আইরিশদের, হাতে ছিল ৯ উইকেট। ওই অবস্থা থেকে ম্যাচ বের করে এনে বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছেন বোলাররা। যেখানে অন্যতম নায়ক হাসান মাহমুদ।
মোস্তাফিজুর রহমান মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া স্পেল শেষ করার পর শেষ ওভারে ১০ রান আটকানোর দায়িত্ব ছিল হাসানের। প্রথম বলেই স্লোয়ার ডেলিভারিতে মার্ক অ্যাডাইরকে বোল্ড করেন হাসান। ‘ব্যাক অব দ হ্যান্ডে’র আরেকটি স্লোয়ারে তৃতীয় বলে তুলে নেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনের উইকেটও। শেষ তিন বলেও দারুণ বুদ্ধিমত্তায় বড় শট খেলা থেকে আটকে দেন জশ লিটল ও ক্রেইগ ইয়ংকে। ৬ বলে ২ উইকেট তুলে নেওয়ার পথে মাত্র ৪ রান দিয়ে বাংলাদেশের ৫ রানের জয় নিশ্চিত করেন হাসান।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১১তম ম্যাচ খেলা হাসানকে ম্যাচ শেষে বিশ্বমানের বোলিংয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক তামিম। যে চাপ সামলে বোলিং করতে হয়েছে, সেটি ঠান্ডা মাথায় দারুণভাবে সামাল দেওয়া নিয়ে তামিমের ভাষ্য এ রকম, ‘এই মুহূর্তে সে বিশ্বমানের বোলিং করছে। বিশেষ করে নতুন বলে সে দুর্দান্ত, ডেথ বোলিংয়েও। বয়সে এখনো তরুণ, কিন্তু বোঝাপড়ার দিক থেকে পরিপক্ব। চাপে শান্ত থাকতে পারে। অনুশীলনে আপনি হাজারো বল করতে পারেন। কিন্তু এ ধরনের পরিস্থিতিতে সঠিক কাজটি করতে পারাটা বিশেষ কিছু।’
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জেতা সিরিজে সেরা হয়েছে নাজমুল হোসেন। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান ৩ ইনিংসে ব্যাট করে একটি সেঞ্চুরিসহ ১৯৬ রান ও শেষ ম্যাচে ১টি উইকেটও নিয়েছেন।
তামিমের মতে, বাংলাদেশ দলের তিন নম্বর পজিশনে থিতু হয়ে গেছেন নাজমুল, ‘সে গত দুই তিনটা সিরিজে খুবই ভালো খেলেছে। নিয়মিত রান করছে। তিন নম্বর পজিশনে দীর্ঘদিন ধরে আমরা কাউকে থিতু হতে হিসেবে পাইনি। আমার মতে শান্ত এখন জায়গায় নিজের অবস্থান করে নিয়েছে। শুধু রানই করছে না। ফিল্ডিংসহ যেখানে যেভাবে পারছে সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলছে। গ্রেট টিম ম্যান।’
