
জয়পুর, ৩ নভেম্বর : রাজস্থান জুড়ে তল্লাশি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) । জানা গিয়েছে, জল জীবন মিশন ঘিরে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তেই তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি। আইএএস অফিসারের বাড়ি সহ মোট ২৫টি জায়গায় শুক্রবার সকাল থেকেই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এদিন সকাল ৮টায় জয়পুরে জল সরবরাহ মন্ত্রী মহেশ যোশী এবং জল সরবরাহ বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সুবোধ আগরওয়াল সহ একাধিক আধিকারিকদের বাড়িতে ইডি দলগুলি হানা দিয়েছে। ইডির একটি দল সচিবালয়েও হানা দিয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুর, দৌসা মিলিয়ে রাজ্যের ২৫টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চলছে। আরও বেশ কয়েকজন ইডির নজরে রয়েছেন বেআইনি আর্থিক তছরুপের মামলায়। তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। জানা গিয়েছে, রাজস্থানের অ্যান্টি-কোরাপশন ব্যুরোর তরফেই প্রথম আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশি এফআইআরে অভিযোগ ছিল, জল জীবন মিশন ঘিরে দুর্নীতি হয়েছে। শ্রী শ্যাম টিউবওয়েল কোম্পানির মালি পদমচন্দ জৈন, শ্রী গণপতি টিউবওয়েল কোম্পানির মালিক মহেশ মিত্তল সহ আরও বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মীদের ঘুষ দিয়েছিলেন বেআইনিভাবে টেন্ডার পাওয়া, বিল পাশ করিয়ে নেওয়া ও বেআইনি কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য। মূলত জনস্বাস্থ্য ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগেই এই দুর্নীতি হয়েছিল।
ইডি এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে। ইডির তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়, অভিযুক্তরা হরিয়ানা থেকে চুরি যাওয়া বিভিন্ন পণ্য কেনার সঙ্গেও যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। সেই পণ্যই টেন্ডার বা চুক্তিতে নিজেদের পণ্য বলে উল্লেখ করে কাজ শেষের ভুয়ো প্রমাণ জমা দেওয়া হত সরকারের কাছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে, ইডি এই মামলার সাথে যুক্ত ঠিকাদার এবং অন্যদের অবস্থানে অভিযান চালিয়েছিল। এরপর আড়াই কোটি টাকা মূল্যের নগদ এবং একটি সোনার ইট (প্রায় এক কেজি ওজনের) উদ্ধার করা হয়। ইডি-র এই পদক্ষেপে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে আধিকারিকদের মধ্যে। ইতিমধ্যেই অনেক কংগ্রেস নেতার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। সাংসদ কিরোরি লাল মীনা এই দুর্নীতির সমস্ত প্রমাণ ইডিকে দিয়েছেন।
মহেশ যোশী বলেন, তিনি কাউকে দোষ দিতে চান না। ইডির উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। নির্বাচনী পরিবেশে ইডি কেন তৎপর তা সকলেই জানেন। তার সচিবালয়ের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে বলে গণমাধ্যম থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, আগামী ২৫ নভেম্বর রাজস্থানে ২০০ আসনে বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের ফল প্রকাশ হবে ৩ ডিসেম্বর।
