
ঢেঙ্কানাল, ২০ মে : বিজেডি সরকার ওড়িশার মতো রাজ্যের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও তারুণ্যের স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ওড়িশার বিজেডি সরকারের এমনই গুরুতর অভিযোগ আনলেন বিজেপি নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার ওড়িশার ঢেঙ্কানালের নির্বাচনী জনসভায় মোদী বলেছেন, "ওড়িশার মতো একটি সমৃদ্ধ রাজ্য, সেই রাজ্যের মহান ঐতিহ্য এবং তরুণ সম্প্রদায়ের স্বপ্ন ধ্বংস করেছে বিজেডি সরকার। বিজেডি সরকার সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিগ্রস্তদের দ্বারা ঘেরা, এই দুর্নীতিগ্রস্তরা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন দখল করেছে এমনকি বিজেডির ছোট নেতারাও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। বিজেডি সরকার জনসাধারণকে ওড়িশার খনিজ সম্পদের সুবিধা নিতে দেয়নি। মোদী ২০১৪ সালে একটি নতুন খনন নীতি তৈরি করেছিলেন যার অধীনে ওড়িশা আরও বেশি রাজস্ব পায়, মোদী জেলা খনিজ তহবিল তৈরি করেছিলেন যাতে এখান থেকে বের হওয়া প্রতিটি খনিজ পদার্থগুলির একটি অংশ এখানে উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং এখানে বসবাসকারী লোকজন উপকৃত হতে পারে। আমরা জেলা খনিজ তহবিলের অধীনে ওড়িশাকে ২৬ হাজার কোটি টাকা দিয়েছি এবং এই অর্থ ঢেঙ্কানালের শিশুদের স্কুল এবং গ্রামের রাস্তাগুলির জন্য ব্যবহার করার কথা ছিল, কিন্তু এতেও বিজেডির লোকেরা দুর্নীতির মনোভাব গ্রহণ করেছিল।" মোদী বলেছেন, "ওড়িশার সম্পদ বা ওড়িশার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিজেডির শাসনে নিরাপদ নয়।"
মোদীর কথায়, "নির্বাচনের সময় বিশ্বের অনেক বিশেষজ্ঞ জায়গায় জায়গায় যাচ্ছেন এবং সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন, ভারতের ভোটারদের মনোভাব অনুভব করছেন এবং অবাক হচ্ছেন যে সবাই মোদীকে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী বানাতে চায়। তরুণ সম্প্রদায়ের উচ্ছ্বাস দেখে মনে হচ্ছে, ২৫ বছর পর ওড়িশা নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছে। এটা নিশ্চিত যে ১০ জুন, বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ওড়িশায় শপথ নেবেন এবং মোদী সরকার দিল্লিতে তৃতীয়বারের মতো শপথ নেবে।" প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, "ওড়িশার গ্রাম, রাস্তা ও প্রতিটি বাড়ি থেকে একই স্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, ''ওড়িশায় প্রথমবার ডাবল ইঞ্জিন সরকার''। ওড়িশার মানুষ ২৫ বছর ধরে বিজেডি সরকারকে বিশ্বাস করেছিল, কিন্তু এখন পুরো ওড়িশা আত্মদর্শন করছে যে এই ২৫ বছরে মানুষ কী পেয়েছে? এখনও, কৃষকরা সমস্যায় পড়ছেন, তরুণ সম্প্রদায় ছোটখাটো কাজের জন্য অন্য রাজ্যে চলে যায় এবং উল্লেখ্যোগ্য বিষয় আদিবাসী অঞ্চল, যেখানে জল, বন, জমি এবং খনিজ সম্পদ রয়েছে, সেখানকারও অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। বেশিরভাগ মানুষ অন্য রাজ্যে কাজে যায় এই এলাকাগুলো থেকে। এত সমৃদ্ধ ওড়িশায় মানুষ কেন এমন দারিদ্রতার মধ্যে থাকতে বাধ্য?"
