
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ উম্পুনের ক্ষত বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। আর সেই খারাপ দিন দেখা থেকে ব্রাত্য নয় ছোট ছোট বাচ্চারা। মাথার উপর কোনো ছাদ নেই তাঁদের। তাই বারান্দায় বসেই চালাতে হচ্ছে পড়াশোনা। সেখানেই চলছে খাওয়াদাওয়া।
হাওড়া গ্রামীণের শ্যামপুর-১ ব্লকের কমলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কোটরা পশ্চিম ও নুনেবাড় উত্তর মিলিয়ে রয়েছে দু'টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। শ্যামপুর-১ ব্লকের কোটরা জুনিয়র হাইস্কুলের জমিতে একটি অ্যাজবেস্টার্সের ঘরে চলত কেন্দ্র দু'টি। দু'টি সেন্টার মিলিয়ে প্রায় দেড়শো পড়ুয়া। উম্পুন ঝড়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের অ্যাসবেস্টার্সের চাল উড়ে যায়।
ঠাই আস্তানা হারিয়ে বিপাকে পড়ে এই জোড়া অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র। অবশেষে জুনিয়র হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের স্কুলের বারান্দায় অঙ্গনওয়াড়ি চালানোর অনুমতি দেয়। সেই সময় থেকে ওখানেই শুরু হয় পঠনপাঠনের আসর। এখন একটু ঠান্ডা পড়ায় খানিক বাঁচোয়া। কারণ বারান্দায় কোনও পাখা নেই, তাই প্রচণ্ড গরমে কাহিল হয়ে পড়ে বাচ্চারা।
গরমের সময় বাচ্চাদের মায়েরা হাত পাখা নিয়ে এসে বাতাস করেন। চার বছর ধরে এ ভাবেই চলছে। কোনও বদল আসেনি। চার বছর আগে মাথার উপর শেড, সিলিং ফ্যান সব কিছুই ছিল বলে জানিয়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দিদিমণি শ্যামলী রায়। তিনি বলেন, 'বারান্দায় যেখানে বাচ্চারা বসে সেখানে বৃষ্টি হলেই জল পড়ে। তাই মেঝেতে গামলা বসিয়ে রাখতে হয়।'
শ্যামলী জানালেন, ব্লক প্রশাসন ও বিধায়ককে এ নিয়ে চিঠি লেখা হয়েছে। কোনও সুরাহা মেলেনি। অথচ চার বছর কেটে গিয়েছে। এই কষ্টের মধ্যেই বাচ্চাদের পড়াশোনা করাতে হয়। পাশে রান্নাঘরের হালও খারাপ ছিল। সেটা নিজেরা পয়সা খরচ করে মেরামত করেছেন অভিভাবকরা। অভিভাবক পম্পা মাইতি বলেন, 'গরম ও বর্ষাকালে সবচেয়ে অসুবিধা। আমাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই। তাই বেহাল অবস্থা দেখেও বাচ্চাদের পড়াশোনা করাতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাঠাতে হয়।'
