
দুর্গাপুর, ১৬ ফেব্রুয়ারি : ফের জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে অবৈধ কয়লা পাচারের রমরমা কারবার। পুলিশের গয়েন্দা বিভাগের তৎপরতাই পাচারের আগে ধরা পড়ল অবৈধ কয়লা বোঝাই দুটি লরি। বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৪০ টন কয়লা। বুধবার রাত্রে ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ নং জাতীয় সড়কের ওপর দুর্গাপুরের ফরিদপুর এলাকায়। ঘটনাকে ঘিরে আবার প্রশ্নের মুখে অবৈধ কয়লার রমরমা কারবারের সঙ্গে তাবত খনি অঞ্চলের জাতীয় সম্পত্তির নিরাপত্তায়। লরি দুটির চালককে জীজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনায় পুলিশ জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুর্গাপুরের ভিরিঙ্গি মোড় সংলগ্ন জাতীয় সড়কে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট গোয়েন্দা বিভাগ তল্লাশী শুরু করে। ওইসময় গয়েন্দা পুলিশের জালে আটক হয় দুটি কয়লা বোঝাই লরি। দুটি লরির মধ্যে প্রায় ৪০ টন কয়লা ছিল। আসানসোল থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে কয়লা নিয়ে যাচ্ছিল। সন্দেহজনক হওয়ায় লরি দুটি আটক করে গোয়েন্দা বিভাগ। গাড়িতে থাকা দুই চালককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তাদের কথায় অসঙ্গতি মেলায় বৈধ কাগজ দেখানোর নির্দেশ দেয়।
প্রসঙ্গত, কয়লাকান্ডে ধরপাকড়ে তোলপাড় গোটা রাজ্য। কেন্দ্রীয় গয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ও রাজ্যের সিআইডি অবৈধ কয়লার চোরাচালনে ধরপাকড় শুরু করেছে। ঘটনায় একাধিক কয়লা মাফিয়া ধরা পড়েছে। ঘটনার তদন্তে জোর তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্য কেন্দ্র উভয় গয়েন্দা বিভাগ।
এমনকি খনি সংস্থা ইসিএলের বেশ কয়েকজন আধিকারিকও গ্রেফতার হয়েছে। কয়লা পাচার কাণ্ডে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার। একইসঙ্গে তদন্তকারীদের র্যাডারে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট শিল্প সংস্থা। পাশাপাশি আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ অবৈধ কয়লা পাচার রুখতে সক্রিয়। তার মধ্যে অবৈধ কয়লা পাচারে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মাফিয়াদের সক্রিয়তায়। গত কয়েক মাস ধরে বেশ কিছু অবৈধ কয়লা পাচারের হদিশ উদ্ধার করেছে। কয়লা চুরি রুখতে গিয়ে দফায় দফায় মাফিয়াদের সঙ্গে লড়াই ও বাধার মুখে পড়তে হয় সিআইএসএফ বাহিনীকে। গত ৪ নভেম্বর কয়লা পাচার রুখতে গিয়ে পান্ডবেশ্বরের শোনপুরে পাচারকারীদের রোষের মুখে পড়ে সিআইএসএফ। শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ ও সিআইএসএফের যৌথ তল্লাশীতে উদ্ধার হল চোরাই কয়লা ও পাচারে ব্যাবহার করা মোটরবাইক। ৬ জুন ইসিএলের পাণ্ডবেশ্বর এরিয়ার সোনপুর বাজারি সিএইচপি- খনি এলাকায় কয়লা চুরিতে বাধা দিতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয় পুলিশ ও সিআইএসএফ জাওয়ান। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ীতে। তারপরও সক্রিয় অবৈধ কয়লা পাচারকারীরা।
উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর অন্ডালের টপলাইন এলাকায় জাতীয় সড়কে নাকা চেকিংয়ের সময় দুটি অবৈধ কয়লা বোঝাই লরি আটক হয়। ঘটনায় গৌরীশংকর মাহাতো ও ফজিজুল মীর দুজন ধরা পড়ে। ধৃত গৌরীশংকর পাণ্ডবেশ্বরের হরিপুর ও ফজিজুল মীর গলসির পুরষা এলাকার বাসিন্দা। লরি দুটিতে বারাবনি থানার গৌরন্ডি থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে কয়লা ভর্তি করে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। তার আগে গত ৭ সেপ্টম্বর গোপনসুত্রে খবর পেয়ে দুর্গাপুর পুরসভার ১ নং ওয়ার্ডের পারুলিয়ায় হানা দেয় পুলিশ। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ কয়লা বোঝাই ৩ টি লরি বাজেয়াপ্ত করে। ঘটনায় চালকসহ চারজন কে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়লা খনি অঞ্চল থেকে ওই কয়লা বোঝাই লরি গুলি আসছিল দুর্গাপুরের দিকে। অনুমান শহর লাগোয়া কোন লিঙ্ক রোড দিয়ে হাইওয়ে ধরার চেষ্টায় ছিল লরিগুলি। পুলিশ খবর পাওয়া মাত্র অভিযান চালিয়ে পারুলিয়া এলাকা থেকে ওই তিনটি গাড়ি আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি লরিতে ৭০ টন কয়লা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। গত আগষ্ট মাসের শেষের দিকে দুর্গাপুর-ফরিদপুর থানার সরপি এলাকায় সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর আড়ালে অবৈধ কয়লা কারবারের হদিশ পায় পুলিশ। ঘটনায় সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর মালিশ যোগেশ রাজদকে গ্রেফতার করে। এবং বাজেয়াপ্ত করে ১০ মেট্রিক টন অবৈধ কয়লা। কয়েকদিন আগে কাঁকসার বাঁশকোপায় অবৈধ কয়লা বোঝাই তিনটি লরি ধরা পড়ে পুলিশের জালে। ঘটনায় দুজন চালক গ্রেফতার হয়। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আসানসোলের সালানপুরে একটি বেসরকারী ফ্যাক্টরীর কয়লা পাচার চক্রের হদিশ পায়। যেখান থেকে ওইসব কয়লা পাচার হচ্ছিল। সেখানে কয়লা ছাড়াও জেসিবি মেশিন বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। তারপর এদিনের ঘটনায় আবারও নতুন করে কয়লা পাচার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে," লরি চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।"
