
কলকাতা, ১৫ জুন : মনোনয়ন শেষের পর শনিবার কালীঘাটে তৃণমূলের নির্বাচনী কমিটির বৈঠক ডাকলেন মমতা-অভিষেক।
প্রথমে জানা গিয়েছিল শনিবার তৃণমূলের নির্বাচনী কমিটির বৈঠক হবে তৃণমূল ভবনে। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর নেতৃত্বে এই বৈঠক হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার জানা যায়, মমতা-অভিষেকের উপস্থিতিতে বৈঠক হবে কালীঘাটেই।
শনিবার বিকেলে কালীঘাটের বৈঠকে রাজ্য তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি, নির্বাচনী কমিটির নেতাদের হাজির থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক। ওই বৈঠকে রাজ্য তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি, নির্বাচনী কমিটির নেতাদের হাজির থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার কাকদ্বীপে শেষ হচ্ছে অভিষেকের জনসংযোগ যাত্রা। কোচবিহার থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক কর্মসূচির শেষ দিন অভিষেকের সঙ্গে এক ম়ঞ্চে থাকবেন মমতাও। এর আগে মালদহের ইংরেজবাজারের জনসংযোগ যাত্রার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে জানিয়েছিলেন, আবারও এই কর্মসূচির শেষ দিনে হাজির হবেন।
১৯ মে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই অভিষেককে নিজাম প্যালেসের অফিসে তলব করলে বাকুঁড়ার পাত্রসায়রের সভায় ভার্চূয়াল মাধ্যমে বক্তৃতা করেছিলেন মমতা। কিন্তু এ বার পরিস্থিতি ভিন্ন। অতীতে দেখা গিয়েছে, পঞ্চায়েত নির্বাচন বা পুরসভা ভোটের প্রচারে সরাসরি নামেন না মুখ্যমন্ত্রী। দলের শীর্ষ নেতৃত্বই এ ক্ষেত্রে ভোট প্রচার থেকে শুরু করে, সামগ্রিক ভাবে নির্বাচন পরিচালনার কাজ করেন।
তবে এ বার পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর বছর ঘুরলেই ২০২৪ সালের লোকসভার ভোট দরজায় কড়া নাড়বে। তাই কাকদ্বীপের জনসংযোগ যাত্রার কর্মসূচির পর তিনি আবারও পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রচারে আলাদা করে নামেন কি না, তা-ও শনিবারের বৈঠক থেকেই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। উল্লেখ্য, মনোনয়নের প্রথম দিকে শাসক শিবির খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও, বুধবার রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে সব বিরোধী দলকে পিছনে ফেলে এক নম্বরে উঠে এসেছে তৃণমূল। বুধবার রাত পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৪৯১ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তৃণমূলের তরফে।
অন্য দিকে, পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণার পর সব রাজনৈতিক দল ব্যস্ত ভোটের কাজে। তাই শুক্রবার জনসংযোগ যাত্রার শেষে সভামঞ্চ থেকে পঞ্চায়েত ভোটের প্রচারের ঢাকে কাঠি দেবেন মমতা-অভিষেক। আর তার পর দিনই শনিবারে কালীঘাটে নির্বাচনী কমিটির বৈঠক তলব করেছেন তাঁরা। শুধু উপস্থিত থাকা নয়, পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলের কী কী করণীয় তা-ও বাতলে দিতে পারেন তৃণমূলের দুই শীর্ষ নেতা।
