
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বার্ষিক ২ লাখ ২ হাজার টাকা বরাত দেওয়া হয়েছে মাধবপুর এলাকায় ঠাকুরান নদীর উপর তৈরি এক কাঠের ব্রিজের জন্য। সেখানে বাইক নিয়ে পারাপার যিনি করবেন, তাঁর জন্য ধার্য ১৫ টাকা। হেঁটে পারাপারে দিতে হবে ৭ টাকা ৷ এমনকি পড়ুয়ারাও এই টাকা দেওয়া থেকে ব্রাত্য নয়। কোনও লিখিত নির্দেশিকা ছাড়াই চলছে এই কাজ। পরিষেবা দেওয়া যে পঞ্চায়েতের কাজ, তারা কোনওরকম লিখিত চুক্তি ছাড়াই সেতুতে কীভাবে যাতায়াতের ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার নির্দেশ দিল সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
বড়াতপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীদের দাবি, সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে এই কথা মানতে নারাজ স্থানীয়রা। তাঁদের পাল্টা দাবি, তাঁরা বহুদিন ধরে শুনে আসছেন এই জায়গায় কংক্রিটের সেতু তৈরি করা হবে ৷ মাঝেমধ্যে ইঞ্জিনিয়াররা এসে মাপজোকও করে যান ৷ কিন্তু তারপর আর কোনও কাজ এগোয় না ৷ বেআইনিভাবে মানুষের উপর বোঝা চাপিয়ে এইভাবে টাকা তোলার নিন্দায় সরব হয়েছেন এলাকাবাসী। ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জমা।
তৃণমূল নেতাদের উপর আঙুল তুলছেন বিরোধীপক্ষ। ঘটনায় তৃণমূলকে কটাক্ষ করে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, 'কুলতলিতে ব্রিজ পারাপারে জন্য টেন্ডার ডেকে টাকা তোলা হচ্ছে। টাকা কিন্তু সরকার তুলছে না, তৃণমূল তুলছে। লোকে যাতায়াত করবে, তার জন্যও টাকা দিতে হবে। জেলাশাসক, বিডিও থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার, সবাই জানে। কিন্তু তৃণমূলের নেতা বলে সবাই চুপ।'
কুলতলি ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপা সর্দার বলেন, 'সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রথম শুনলাম। আমার এটা জানা ছিল না। অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে হবে। স্থানীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলব। যদি সেতু পারাপারের জন্য টাকা নেওয়া হয়ে থাকে, সেটা অন্যান্য। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। সাধারণ মানুষের থেকে এইভাবে টাকা নেওয়া যায় না।'
