
আগরতলা, ২৫ জুলাই : ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেস বড়সড় বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয়েছে। তৃণমূলের ত্রিপুরা প্রদেশ সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বরিষ্ঠ আইনজীবী পীযূষকান্তি বিশ্বাস। ব্যক্তিগত কারণে তিনি তৃণমূলের সভাপতি পদ এবং দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে শীঘ্রই তিনি বিজেপি-তে যোগ দেবেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ত্রিপুরায় সংগঠন বিস্তারে তৃণমূল কংগ্রেস খুবই তৎপর। আগরতলা পুর নিগম এবং ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ত্রিপুরায় আদাজল খেয়ে ময়দানে নেমেছিল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তাবড় তাবড় নেতা-নেত্রী ঘনঘন ত্রিপুরা সফর করেছেন। বাদ যাননি তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু, ফলাফলের খাতায় শূন্য প্রাপ্তি হয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জামানতও জব্দ হয়।
সম্প্রতি তৃণমূলের বহু পুরনো নেতা আশিসলাল সিংহ দল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। আজ দলের সভাপতি পদ থেকে পীযূষকান্তি বিশ্বাসের পদত্যাগে ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা অস্বীকার করার অবকাশ নেই। এদিন পীযূষবাবু বলেন, একান্তই ব্যক্তিগত কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। কারণ, বেশ কিছুদিন ধরে ব্যক্তিগত সমস্যার জেরে দলের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছি না। ফলে, দলে থেকে সমালোচিত হওয়ার বদলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়া শ্রেয় মনে করেছি।
তাঁর দাবি, তৃণমূলের প্রদেশ সভাপতি এবং প্রাথমিক সভ্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। আপাতত কিছুদিন রাজনীতির বাইরে থাকতে চাইছি। তিনি এদিন তৃণমূল কংগ্রেস-সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর প্রতি আস্থা রাখা এবং প্রদেশ সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
