
কোচবিহার, ৭ এপ্রিল :কোচবিহারে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হল তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্যা, তাঁর স্বামী এবং বড় মেয়েকে। আততায়ীদের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্যার ছোট মেয়েও। শুক্রবার ভোররাতে কোচবিহারের শীতলকুচির পশ্চিমপাড়ায় ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনায় ৩ আততায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, পঞ্চায়েত সদস্যার ছোট মেয়ের প্রেমঘটিত সম্পর্কে টানাপোড়েনের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। মাথাভাঙার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অমিত বর্মা বলেন, ‘‘প্রধান অভিযুক্ত বিভূতিভূষণ রায় এবং তার সঙ্গীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রেমঘটিত সম্পর্কের কারণেই এই ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।’’ পুলিশ মামলা রুজু করে খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
শুক্রবার ভোররাতে জনা কয়েক দুষ্কৃতী শীতলকুচির তৃণমূলের এসসি-এসটি সেলের ব্লক সভাপতি বিমল বর্মণের বাড়িতে হামলা চালায়। সেই সময় বাড়িতেই ছিলেন ওই তৃণমূল নেতার স্ত্রী ও তাঁর দুই মেয়ে। ঘরে ঢুকেই চারজনের উপর এলোপাথাড়ি কোপ মারতে থাকে হামলাকারীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে শীতলকুচি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা বিমল বর্মণ (৬৮)-সহ তাঁর স্ত্রী নীলিমা বর্মণকে (৫২) মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত অবস্থায় বিমল বাবুর দুই মেয়েকে শীতলকুচি থেকে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরীত করা করা হয়। সেখানেই পরে মৃত্যু হয় বিমল বাবুর বড় মেয়ে রুনা বর্মণের (২৪)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর ছোট মেয়ে ইতি বর্মণ (২২)। খুন করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ৩ জন দুষ্কৃতীকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এই খুনের প্রতিবাদে মাথাভাঙা-শীতলকুচি রাজ্যসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই এই খুন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ।
