
নয়াদিল্লি, ৩ অক্টোবর : প্রাপ্য বকেয়ার দাবিতে দিল্লিতে ধর্না অভিযানে নেমেছে তৃণমূল। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে যন্তরমন্তরে তাদের অবস্থান চলাকালীনই দিল্লিতে বিজেপি-র সদর দফতরে জোড়াফুল শিবরকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যে ১০০ দিনের কাজ, আবাস এবং সড়ক যোজনার বকেয়া টাকার দাবিতে ধর্না তৃণমূলের, তাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন শুভেন্দু।
দিল্লিতে ধর্না কর্মসূচিতে তৃণমূল বঞ্চিতদের থেকে পাওয়া চিঠির পাহাড় নিয়ে মঞ্চে রয়েছেন দলের নেতা-নেত্রীরা। সেখান থেকে বিকেলে কৃষিভবনও রওনা দেবেন তাঁরা। আর সেইসময়ই দিল্লিতে বিজেপি-র সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন শুভেন্দু।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দুবাবু বলেন, "লোকসভা নির্বাচনের আগে হারিয়ে যাওয়া জনসমনর্থন ফিরে পেতে এই নাটক করছে তৃণমূল। দিল্লিতে রাজনৈতিক কর্মসূচি করছে। আঞ্চলিক দল তৃণমূল দেশের রাজধানীতে মিথ্যা দাবি নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি করছে। জাতীয় স্তরে ওদের এই আন্দোলনের কোনও প্রভাব পড়েনি। প্রভাব পড়েনি পশ্চিমবঙ্গেও। মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে।"
তৃণমূলকে আক্রমণ করে শুভেন্দুবাবু বলেন, তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানদের সঙ্গে প্রশাসনিক প্রধানদের আঁতাঁতে এই দুর্নীতি হয়েছে। অধিকাংশ টাকা তৃণমূল নেতাদের পকেটে ঢুকেছে। সব রাজ্যের মতো, পশ্চিমবঙ্গেও আবাস যোজনার টাকা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় অসংখ্য ভুয়ো নাম রয়েছে।
শুভেন্দুবাবু বলেন, এই ভুয়ো নামের তালিকা আমি কৃষি ও গ্রামন্নোয়ন দফতরে পাঠিয়েছি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ এর সত্য উদঘাটন করেছেন। জানিয়েছেন এই তালিকায় দেওয়া তথ্য় সম্পূর্ণ সত্য। এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের ১৫টি জেলার ভুয়ো নামের তালিকা আছে। তৃণমূল দিল্লিতে নাটক করছে।
১০০ দিনের কাজ থেকে আবাস এবং সড়ক যোজনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে সরব তৃণমূল। রাজীনতির ময়দানে পেরে না উঠে, দরিদ্র মানুষের পরিশ্রমের টাকা আটকে রাখা হয়েছে বলবে দাবি তাদের। কিন্তু এদিন তৃণমূলের বিরুদ্ধেই রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার অভিযোগ তুলেছেন।
শুভেন্দুবাবুর কথায়, "রাজনৈতিক কারণে পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত চালু করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাই আয়ুষ্মান ভারতের সুযোগ পান না। প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলে খাদ্যসাথী করে দিয়েছে। তৃণমূল পরিবারবাদ, তোষণ এবং দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। ভুয়ো জব কার্ড কাজে লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।"
