পূর্ব মেদিনীপুর, ২৭ নভেম্বর :খেজুরির বিজেপি নেতা রবীন মান্নার গ্রেফতারির প্রতিবাদে পূর্ব ঘোষণামতো সোমবার খেজুরিতে ১২ ঘণ্টার বন্ধ পালন করছে বিজেপি। শনিবার রাতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দুবাবু সোমবার খেজুরিতে হরতালের ঘোষণা করেছিলেন।
এ দিন বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধের জেরে কার্যত বিপর্যস্ত জনজীবন। বন্ধ তুলতে গেলে পুলিশের উপরেও চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’র বিরুদ্ধেই এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে শামিল হয়েছেন সাধারণ মানুষ। অন্য দিকে, তৃণমূলের দাবি, গায়ের জোরে বন্ধ পালন করছে বিজেপি। এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ বজায় রাখতেই এই বন্ধ বলে দাবি শাসকদলের।
শনিবার বিকেলে খেজুরির বাঁশগোড়া বাজারে বিজেপির কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে দলের মণ্ডল সম্পাদক রবীনকে গ্রেফতার করে খেজুরি থানার পুলিশ। অভিযোগ, সাদা পোশাকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সভাশেষে দলের নেতার গ্রেফতারির খবর শুনে খেজুরি থানা এবং হেঁড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রে যান স্থানীয় বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক এবং বিজেপির একাধিক নেতা। যদিও দু’টি থানাতেই ধৃতের কোনও সন্ধান জানা যায়নি।
এর পর জানা যায়, রবীনকে মারিশদা থানায় রাখা হয়েছে। শনিবার রাত সওয়া ১০টা নাগাদ মারিশদা থানায় যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি থানার ভিতরে ঢুকে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকের কাছে ধৃত দলীয় কর্মীর অ্যারেস্ট মেমো দেখতে চান।
ধৃতের পরিবারকে কেন দীর্ঘ ক্ষণ বাদেও গ্রেফতারের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি, সে ব্যাপারেও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। তিনি প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে থানার বাইরে দলের দুই বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে অবস্থান করেন। থানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রীতিমতো হুমকির সুরে পুলিশ আধিকারিকদের তিনি বলেন, ‘‘আমার দলের নেতাকে অপহরণ করা হয়েছে। তার স্ত্রীকে দিয়ে মামলা করাব। মারিশদা থানার ডিউটি অফিসার এবং ওসি, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি আর তদন্তকারী আধিকারিককে পার্টি করব। প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করব।’’
