
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ শরৎচন্দ্রের অন্নদা দিদির স্বামীর কথা মনে আছে? সাপুরে ছিলেন,সাপের সঙ্গেই ছিল তার বাস। আর মৃত্যু হলো সাপের কামড়েই। ঠিক যেন ওই রকম ভাবেই সাপকে নিয়েই ঘর করে বেদে পাড়ার বেশ কিছু পরিবার। সাপ নিয়ে তাদের নিত্যকার জীবন যাপন। সাপের খেলা দেখিয়েই রোজগার এবং বাঁচার সংগ্রাম। বাঁকুড়া দুই নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত কমলা ডাঙ্গায় বাস করছেন একাধিক বেদে পরিবার। ওই কত পরিবার নিয়ে গড়ে উঠেছে বেদে পাড়া। শতাধিক বছর ধরে চলে আসা তাদের জীবিকা হল সাপের খেলা দেখানো অর্থাৎ সাপুড়ে। মাটির তলা থেকে সাপ ধরতে পটু এই গ্রামের সাপুড়েরা। বংশ পরম্পরা বহুদিনের কারবার।
এই গ্রামের আবালবৃদ্ধবর্ণিতা সকলেই সাপ বিশেষজ্ঞ। ছোট থেকে বড় প্রত্যেকেরই রয়েছে সাপ সংক্রান্ত বিভিন্ন জ্ঞান এবং প্রত্যেকেরই জানা রয়েছে সাপ ধরার কলা কৌশল। সাপ ধরে নিয়ে এসে সেই সাপ সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে দূরের শহরাঞ্চলে ও গ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে খেলা দেখায় এই কমলা ডাঙ্গার সাপুড়েরা। রোজগার ৫০ থেকে ৭০ টাকা মাত্র। তাতেই চলছে তাদের জীবন জীবিকা। এই সাপের খেলা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্পের সন্ধান তেমনভাবে পায়নি ওরা।
তবে নবপ্রজন্ম অন্য কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে এদিকে ওদিকে। এই গ্রামের আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে বিষধর খরিস এবং চন্দ্রবোড়া সাপ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাপ ধরতে সংকোচ বোধ করেন না গ্রামের সাপুড়েরা, কারণ এই বিষধর সাপগুলোই বাঁচিয়ে রেখেছে তাদের ছেলেমেয়েদের। গ্রামের প্রবীণ সাপুড়ে রবি সরবেদিয়া জানান "আজ প্রায় চল্লিশ বছর ধরে সাপের খেলা দেখাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে সাপের খেলা দেখিয়ে চলছে না রুজি রোজগার। বংশানুক্রমিক ভাবে যারা সাপের খেলা দেখাতো আস্তে আস্তে তাদের ছেলেমেয়েরা বেছে নিচ্ছে বিকল্প জীবিকা।"
