
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছে গিয়েছে ভারত। বুধবার ইতিহাস রচনা করল ইসরো। অজানা-অদেখা এই দক্ষিণ মেরু রহস্য মোড়া। চাঁদের এই অংশেই জলের অস্বিত্ব থাকার সম্ভাবনা প্রবল। আর তাই সেখানেই ল্যান্ডার বিক্রমকে অবতরণ করাল ইসরো। ল্যান্ডার এবং রোভার প্রজ্ঞান বেরিয়ে এসে পরিকল্পনা মাফিক কাজ শুরু করেছে। চাঁদ থেকে তিন লক্ষ কিলোমিটার দূরে ইসরোয় বসে এই প্রজ্ঞানকে পরিচালনা করার দায়িত্ব যে বিজ্ঞানী দলের কাঁধে তাঁদেরই অন্যতম কৃশানু নন্দী। বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের ব্লকের প্রত্যন্ত ডান্না গ্রামের কৃশানুর এই সাফল্যে খুশি পরিবার আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, গ্রামবাসী এমনকি তাঁর গ্রামের স্কুলের শিক্ষকরাও। এই পাত্রসায়ের থেকেই উত্থান কৃশানুর। ঘরের ছেলেরও অবদান রয়েছে ভারতের চাঁদ জয়ে। গর্বে বুক ফুলেছে বাংলার এই জেলার। বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের ব্লকের প্রত্যন্ত ডান্না গ্রামে জন্মে বেড়ে ওঠা কৃশানুর। গ্রামের আর পাঁচটা সাধারণ চাষি পরিবারের মতোই পরিবারের আর্থিক অবস্থা। কিন্তু সেই অর্থনৈতিক অবস্থা চেপে রাখতে পারেনি কৃশানুর প্রতিভাকে।

ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী কৃশানুর পড়াশোনা শুরু গ্রামেই। পরবর্তীতে গ্রামের পার্শ্ববর্তী বামিরা গুরুদাস বিদ্যায়তন থেকে মাধ্যমিক পাস করে তিনি ভর্তি হন বাঁকুড়ার কমলপুর নেতাজী হাইস্কুলে। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে কৃশানু তথ্যপ্রযুক্তিতে বিটেক করেন কলকাতার আরসিসি ইন্সটিটিউট অফ ইনফরমেশান টেকনোলজি থেকে। পরে যাদবপুর থেকে এম টেক করেন তিনি।এম টেক শেষ হওয়ার আগেই একই সঙ্গে বিএসএনএল ও ইসরোতে চাকরি পান কৃশানু নন্দী। ইসরো ছিল স্বপ্ন, তাই সেই সুযোগ পেয়ে আর কোনও দ্বিতীয় ভাবনাই ছিল না। প্রতিবেশীরা বলছেন, বিএসএনএল অপেক্ষা বেতন কম জেনেও ইসরোর অফারটি গ্রহণ করেই চাকরিতে যোগ দেন কৃশানু। ইসরো চন্দ্রযান মিশন গ্রহণ করলে চাঁদের বুকে রোভারের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য যে বিজ্ঞানীদলকে ইসরো বেছে নেয় তার মধ্যে জায়গা করে নেয় বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের ব্লকের প্রত্যন্ত ডান্না গ্রামে ছেলেও । বুধবার চন্দ্রযান চাঁদের বুকে সফল অবতরণ করার পরই কাজ শুরু রোভার প্রজ্ঞানের। অবতরণের আড়াই ঘণ্টা পর তাঁর পেট থেকে বেরিয়ে আসে প্রজ্ঞান। এই রোভার প্রজ্ঞানকে পরিচালনার কাজেই আপাতত দম ফেলার ফুরসৎ নেই কৃশানুর। গতকাল চন্দ্রযান অবতরণের পর ইসরোর বিজ্ঞানীদের উদযাপনের যে ছবি সরাসরি সম্প্রচারে ধরা পড়ে তাতে দেখা যায় সেই উচ্ছাসে যোগ দিয়েছেন বাংলার এই কৃতি বিজ্ঞানীও। কৃশানুর এই সাফল্যে গর্বিত তাঁর পরিবার, আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, গ্রামের মানুষ এমনকি কৃশানুর ছোটবেলার স্কুলও। সর্বত্রই চলছে দেশের সঙ্গে সঙ্গে এই তরুণেরও সাফল্যের উদযাপন।হাই স্কুলের শিক্ষক কৃশানুর জামাইবাবু শৌভিক নায়েক বলেন, ‘‘দীর্ঘ সময় অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে। কৃশানু মঙ্গলবার অফিসে গিয়েছে। তারপর থেকে বাড়ির সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ নেই। আমরাও এই সময় তাকে বিরক্ত করতে চাইনি। দেশের এই সাফল্যে কৃশানুর পরিশ্রম মিশে থাকায় তাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।’’
