West Bengal

3 years ago

Jalpaiguri : সরকারি আশ্বাসই সার, মায়ের দেহ কাঁধে নিয়ে হেঁটে রওনা দিলেন ছেলে-বাবা

Jalpaiguri Case
Jalpaiguri Case

 

জলপাইগুড়ি, ৫ জানুয়ারি  : বিভিন্ন স্তরের নানা মন্ত্রী আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতিরজোয়ারে প্রায়ই ভাসিয়ে দেন আমজনতাকে। কিন্তু তারবাস্তবায়ন হয় কতটুকু? বৃহস্পতিবার অমানবিক এক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়িবাসী।

মাল মহকুমার ক্রান্তি ব্লকের বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর রামপ্রসাদ দেওয়ান তাঁর মা লক্ষ্মীরানি দেওয়ানকে গতকাল রাতে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন শ্বাসকষ্টের জন্য। রাতেই মারা যান লক্ষ্মীরানি দেওয়ান৷ বৃহস্পতিবার সকালে মায়ের মৃতদেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করতে গেলে ১০০০ টাকা ভাড়ার জায়গায় হাসপাতালে থাকা অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া চাওয়া হয় ৩০০০ হাজার টাকা। এতো টাকা দিতে না পেরে শেষমেশ মায়ের মৃতদেহ কাঁধে নিয়েই হেঁটে ক্রান্তির উদ্দেশে রওনা দেন রামপ্রসাদ দেওয়ান৷

পথেই এই দৃশ্য চোখে পড়ে জলপাইগুড়ির একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদের। সঙ্গে সঙ্গে তাদের শববাহী গাড়ি ডেকে সেই গাড়িতে মৃতদেহ ক্রান্তির উদ্দেশে রওনা দেয়৷ এই দৃশ্য আরও একবার রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা প্রকাশ্যে আনল। এর আগে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে শববাহী গাড়ি না পেয়ে মৃতদেহ নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা গিয়েছে। যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। এবার এরাজ্যেও নজরে পড়ল সেই ছবি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের নিজস্ব সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে। কিন্তু, তাতে সাধারণ মানুষ কোনও পরিষেবা পান না। অভিযাগ, ওই অ্যাম্বুল্যান্সে করে যাতায়াত করেন হাসপাতাল কর্মীরা। আর কোনও শববাহী গাড়ি হাসপাতালে নেই। ফলে সাধারণ মানুষকে বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের উপরই ভরসা করতে হয়। যে কারণে বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সগুলি মনমর্জিমতো ভাড়া হাঁকায়। জলপাইগুড়ি থেকে ক্রান্তির দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিমির মতো। বৃদ্ধার মৃতদেহ এই দূরত্ব পর্যন্ত যেতে দিনমজুর ছেলের কাছে ৩ হাজার টাকা চাওয়া হয় বলে তাঁর অভিযোগ। কিন্তু, অত টাকার দেওয়ার সম্বল না থাকায় তিনি নিরুপায় হয়ে মাকে কাঁধে চাপিয়ে হাঁটা লাগান।


You might also like!