কলকাতা, ৩ নভেম্বর : তিনি যে ‘নির্দোষ’, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন বলেও দাবি করলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য ইডির দফতর সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বার করা হয় জ্যোতিপ্রিয়কে। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে ইডি হেফাজতে থাকা মন্ত্রী বলেন, “আমি চক্রান্তের শিকার। বিজেপি আমায় ফাঁসিয়েছে। মমতাদি-অভিষেক সব জানে।” তিনি দলের সঙ্গে রয়েছেন কি না এই প্রশ্নের উত্তরে বালু বলেন, “আমি দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব।” খুব তাড়াতাড়ি তিনি ছাড়া পাবেন বলেও দাবি করেছেন জ্যোতিপ্রিয়।
ইডি প্রায় একটানা ২১ ঘণ্টা তল্লাশির পর গ্রেফতার হন জ্যোতিপ্রিয়। ওই দিনই সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের হেনস্তা করছে বলেই অভিযোগ করেছিলেন তিনি। সেই পথেই হেঁটে ফের ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত শোনা গিয়েছে জ্যোতিপ্রিয়র গলাতেও। যদিও বিজেপির দাবি, দোষ ঢাকতে এসব সাজানো গল্প তৈরি করছেন রাজ্যের শাসক শিবির।
গ্রেফতার হওয়ার পরেও জ্যোতিপ্রিয় দাবি করেছিলেন যে, বিজেপি এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে ফাঁসিয়েছেন। সেই অভিযোগ গ্রেফতারির এক সপ্তাহ পরেও বহাল রাখলেন বালু।
শুক্রবার জ্যোতিপ্রিয়কে প্রশ্ন করা হয়, দল কি তাঁর সঙ্গে আছে? জবাবে মন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই আমার সঙ্গে আছে।” প্রসঙ্গত, বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বৃহস্পতিবার দলের সঙ্গে জ্যোতিপ্রিয়ের ‘দূরত্ব’ বজায় রেখে বলেছিলেন যে, “ব্যক্তি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কী করেছেন, তার জন্য দলের ভাবমূর্তি কেন নষ্ট হবে?” এই আবহেই জ্যোতিপ্রিয় বার্তা দিলেন যে, দল যেমন তাঁর সঙ্গে আছে, তেমনই তিনিও দলের সঙ্গে রয়েছেন। এই পাশে থাকার বার্তা দিতে জ্যোতিপ্রিয় জুড়ে দিলেন মমতা এবং অভিষেকের নামও।ঘটনাচক্রে, কাকলি যে জেলার সাংসদ, একদা সেই উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূল সভাপতি ছিলেন বালু।
