
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বুধ বারের ঘটনার পর বদলে গেল হঠাট-ই বদলে গেল মালদহের চন্দ্রমোহন হাই স্কুলের চেহারা। সকাল হলেই স্কুল চত্তরের চেহারাটাই বদলে যেত, সে ই স্কুলের রূপটাই বদলে গেল বুধবারের ঘটনার পর। স্কুলের গেটে বসেছে পুলিশ পিকেটও। ঢুকতে-বেরোতে চলছে কড়া নজরদারি।
উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল মুচিয়া এলাকার ওই চন্দ্রমোহন হাই স্কুলে। সপ্তম শ্রেণির ক্লাসে ঢুকে শিক্ষিকা এবং পড়ুয়াদের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে ধরেছিলেন দেব বল্লভ নামে স্থানীয় এক যুবক। তাঁর পিঠে ছিল ব্যাগ। হাতে ছিল পেট্রল বোমা। আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তিনি সকলকে খুন করার হুমকি দিচ্ছিলেন। বছর আটচল্লিশের ওই যুবককে পরে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু ঘটনার পর এক দিন কেটে গেলেও আতঙ্কের ছাপ রয়ে গিয়েছে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীদের চোখেমুখে।
বুধবার সপ্তম শ্রেণির বাংলা ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষিকা প্রতিভা মোহন্ত। সেই সময় ক্লাসে ঢুকে পড়েন দেব। আগের দিনের ঘটনার কথা তুলে প্রতিভা বলেন, ‘‘গত কাল ক্লাসে ছিল ৭১ জন ছিল। আজ উপস্থিত মাত্র ১৭ জন। আমরা স্কুলের তরফে থেকে সকলকে বোঝাচ্ছি যে, ভয় নেই। প্রশাসনের তরফেও আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে আগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার। তবে আমরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি।’’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বাগতম সাহার বক্তব্য, ‘‘আমি ১২ বছরের বেশি এই স্কুলে আছি। এত দিন কোনও রকম ভাবেই নিরাপত্তার অভাব বোধ করিনি। কিন্তু গতকালকের ঘটনার পর আমি উদ্বিগ্ন। স্কুলে নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে। পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানিয়েছি।’’ বুধবারের ঘটনার পর স্কুলে যে পড়ুয়ার উপস্থিতির সংখ্যা কমেছে তা মেনে নিয়েছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন, বুধবার স্কুলে উপস্থিত ছিল ৬৫২ জন পড়ুয়া। সেই জায়গায় বৃহস্পতিবার মাত্র ২০৪ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন স্বাগতম। তিনি জানিয়েছেন, জেলা শিশু সুরক্ষা দফতরের প্রতিনিধিরা পরিদর্শন করেছেন ওই স্কুল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের কাউন্সেলিং করানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মালদহের পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলির নিরা পত্তা প্রসঙ্গে বলেন- ‘‘জেলা শিক্ষা দফতর, জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া-সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক করে প্রতিটি স্কুলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার করতে কী ধরনের পদক্ষেপ করা প্রয়োজন তা আলোচনা করা হবে।’’
