
ছেলেকে নিয়ে গর্বের শেষ ছিল না বাবা, মায়ের। কারণ, ছেলে যে ভারতীয় সেনা জওয়ান। দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছে। আগামী মার্চে গ্রামের বাড়িতে আসার কথা ছিল ছেলের। তবে মার্চ নয়, সময়ের অনেকটা আগে, আজ শনিবার রাতে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে চলেছে গোপীনাথ মাকুড়।জীবিত নয়, কফিন বন্দি হয়ে। স্বভাবতই, দুঃসংবাদটা শোনার পর থেকেই বড়দিনের উত্সবের প্রাক্কালে শোকাচ্ছন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানার বাঁকাদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভালুকা গ্রাম। শোকে কার্যত পাথর গোটা পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত, শুক্রবার উত্তর সিকিমের জেমা এলাকায় খাদে গাড়ি উলটে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ঘটনায় তিন জন জুনিয়র কমিশন অফিসার সহ ১৬ জন ভারতীয় জওয়ানের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এঁদের মধ্যে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থানার বাঁকাদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভালুকা গ্রামের গোপীনাথ মাকুড় নামে ওই সেনাকর্মী রয়েছেন। ভালুকা গ্রামের বাড়িতে এই দুঃসংবাদ আসার পর থেকেই শোকস্তব্ধ পুরো এলাকা।
জানা গিয়েছে, ২০ জন সেনা জওয়ানকে নিয়ে তিনটি ট্রাকের একটি আর্মি কনভয় উত্তর সিকিমের চাটেন থেকে থাংগু যাচ্ছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে আর্মি কনভয়ের মাঝের একটি ট্রাক রাস্তায় বাঁক নেওয়ার সময়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাড়া ঢালে ধাক্কা খেয়ে সোজা খাদে ছিটকে পড়ে। 'দুর্ঘটনাগ্রস্ত' আর্মি ট্রাকে থাকা ১৬ জন সেনা জওয়ানের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আরও চারজন গুরুতর আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
মৃত সেনাকর্মীর পরিবার সূত্রে খবর, ২০০১ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন গোপীনাথ। বাড়িতে বাবা, মা, স্ত্রী, ১১ বছরের একমাত্র ছেলে, ভাই ও ভ্রাতৃবধূ রয়েছেন। গত অগাস্টে শেষবারের মতো বাড়ি থেকে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যান গোপীনাথ। আগামী মার্চে বাড়ি ফিরে বাঁকুড়া শহরের জুনবেদিয়ায় নির্ম্মীয়মান বাড়িতে গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান করার কথা ছিল। তার আগেই সব শেষ! শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত, শনিবার সেনা জওয়ান গোপীনাথ মাকুড়ের দেহ ভালুকা গ্রামের বাড়িতে আসবে। শেষবারের মতো ঘরের ছেলেকে চোখের দেখা দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুণছে গোটা তল্লাট।
