
কলকাতা, ২০ ডিসেম্বর : কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের পর অবশেষে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেল নাদিয়ার হাঁসখালি কাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবার । যে সংস্থাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই সংস্থাই গত আট মাস ধরে তারিখের পর তারিখ নিচ্ছে, যার জন্য নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে হাইকোর্টের আইনি সেবা কর্তৃপক্ষকে তিরস্কার করেন হাইকোর্ট। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, সোমবারই নিহতের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হাঁসখালিতে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় তৃণমূল নেতা সমর গয়ালির ছেলে ব্রজগোপালের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ টালবাহানার পর তাকে গ্রেফতার করে হাসখালি থানা । তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, খুন-সহ কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু হয়। পকসো আইনেও মামলা দায়ের হয় ওই নাবালকের বিরুদ্ধে। ধর্ষিতার পরিবারের অভিযোগ ছিল, ওই তৃণমূল নেতা প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের মুখ বন্ধ করতে বলেন। ঘটনার ৪ দিন পর চাইল্ড লাইনের সহযোগিতায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা-মা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। রাণাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের অভিযোগ ছিল, প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ছেলেকে আড়াল করতে আগে থেকেই নাবালিকার দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। পুলিশের পাল্টা দাবি, মেয়ের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে ব্রজগোপালকে।
কেন আট মাস পিছিয়ে আছে তা জানতে চেয়েছেন আদালত। যে সংস্থাকে ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাঁরা বারবার শুনানি পিছনোর আবেদন জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে । চলতি সপ্তাহের শুরুতেই তার উল্লেখ করে রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করেন প্রধান বিচারপতি। তার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয় বলে এদিন হাইকোর্টে জানায় রাজ্য সরকার।
