
গুয়াহাটি, ১৪ সেপ্টেম্বর : অসম বিধানসভার আজ শরৎকালীন অধিবেশনের চুতুর্থ দিন বিরোধীদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন পরিষদীয় মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারি৷ কিন্তু তাঁর জবাবি ভাষণ না শুনে উল্টো শোরগোল তুলে তাঁকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করছিলেন বিরোধী নির্দলীয় (রাইজর দল) বিধায়ক অখিল গগৈ৷ এতে মেজাজ হারিয়ে অখিলের উদ্দেশ্যে ঊর্ধ্ববাহু বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখান সংখ্যালঘু কল্যাণ ও উন্নয়ন এবং বন ও পরিবেশ দফতরের মন্ত্রী মন্ত্ৰী চন্দ্ৰমোহন৷ ঘটনাকে দৃষ্টিকটূ এবং অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বিধানসভায় শোরগোল তুলে জোটবদ্ধভাবে পরিস্থিতি উত্তাল করে তুলেন বিরোধীরা।
বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের দেবব্ৰত শইকিয়া সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিভাগ কর্তৃক সরকারি তহবিলের ব্যবহার সংক্রান্ত এক প্রশ্ন করেছিলেন। এর জবাব দিচ্ছিলেন বিভাগীয় মন্ত্ৰী চন্দ্ৰমোহন পাটোয়ারি। জবাবি ভাষণ শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যে স্বভাবসুলভ আচরণ করে উত্তরদাতাকে প্ররোচিত করতে চেষ্টা করতে থাকেন বামনেতা অখিল গগৈ। বক্তব্য পেশে বাধা পেয়ে এক সময় মেজাজ হারিয়ে ফেলেন মন্ত্রী পাটোয়ারি। তিনি বিরোধী বেঞ্চ, বিশেষ করে অখিলের উদ্দেশ্যে দু হাত তুলে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ প্ৰদৰ্শন করে কিছু বলছিলেন।
এ ঘটনার প্ৰতিবাদে বিরোধী কংগ্ৰেসের বিধায়করা চার মিনিটের জন্য সদন থেকে ওয়াকআউট করেন। তাঁদের প্রশ্ন, সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিভাগের ব্যবহারিক প্ৰমাণপত্ৰ প্ৰদানে সরকার ব্যৰ্থ হওয়ার কী কারণ? এর জন্য দায়ী জেলাশাসকদের বিরুদ্ধে সরকার কেন ব্যবস্থা গ্ৰহণ করেনি? বিরোধীদের এ সব প্ৰশ্নের সদুত্তর মন্ত্রী দেননি বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা।
মন্ত্রী বলছিলেন, তাঁর বিভাগের জন্য বরাদ্দ তহবিলের ব্যবহার দৈনিক পৰ্যবেক্ষণ হয়। কিন্তু মন্ত্রী পাটোয়ারি যখন বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন, তখন অখিল গগৈ দাঁড়িয়ে বলতে থাকেন, মন্ত্ৰী খারাপ উত্তর দিচ্ছেন, এর মধ্যে সত্যতা নেই৷ মন্ত্ৰী কিছুই জানেন না।
অখিল গগৈয়ের অভিযোগ শুনে তেঁতে ওঠেন মন্ত্ৰী পাটোয়ারি। মন্ত্ৰী দু হাত তুলে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলেন, ‘অখিল গগৈ, আপনি আমাকে কিছুই জানি না বলেছেন। আমার অখিল গগৈয়ের সাৰ্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।’ পাটোয়ারির এই আচরণের প্রতিবাদ করেন বিরোধী দলনেতা দেবব্ৰত শইকিয়া। সদনে একজন সিনিয়র মন্ত্ৰী কর্তৃক বিরোধী বিধায়ককে এভাবে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ প্ৰদৰ্শনকাৰ্য পবিত্ৰ বিধানসভার গরিমা ম্লান করেছে বলে একযোগে অভিযোগ তুলেন বিরাধীরা।
মন্ত্ৰী পাটোয়ারির বিরুদ্ধে বিধানসভার অনুশাসন ভঙ্গের অভিযোগে বিহিত ব্যবস্থা গ্ৰহণ করতে অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ দৈমারির কাছে অনুরোধ জানান বিরোধী বিধায়করা।
