
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের অশান্ত আউশগ্রামের জঙ্গলমহল দেবশালা। মিছিল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তৃণমূলকর্মীর ওপর হামলা। অভিযোগের আঙ্গুল বহিষ্কৃত তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়াল বুদবুদ থানার আউশগ্রামের দেবশালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী, নামল র্যাপ, কমব্যাট ফোর্স। ঘটনার পর পুরুষ শূণ্য অভিযুক্তদের গ্রাম।
আক্রান্ত তৃণমূলকর্মী আরুহুল আজম মোল্লা। দেবশালা অঞ্চলের ভাতকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা। গত ২০২১ সালে তৃণমূলকর্মী চঞ্চল বক্সী খুনের পর দলের অঞ্চল সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ঘটনায় জানা গেছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে দেবশালায় তৃণমূলের মিছিল ছিল। সেখান থেকে পার্শ্ববর্তী অমরপুর গ্রামে সভা ছিল। সেই মতো মিছিল দেবশালা থেকে কাঁকোড়া, ধানতোড় গ্রাম হয়ে অমরপুর যাচ্ছিল। ওই মিছিলকে সংগঠিত করার মুল দায়িত্ব ছিল আজম মোল্লার ওপর। মিছিলের পিছিনের দিকে ছিল সে। অভিযোগ, দেবশালা বাসস্ট্যান্ডের কাছে একদল দুস্কৃতি মোটরবাইকে করে এসে মিছিল থেকে তাকে আটক করে। সেখানেই এলোপাথাড়ি মারধর করে মোটরবাইকে তোলে। আক্রান্ত আজম মোল্লা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জানান,"গলায় গামছা বেঁধে মারধর করে অপহরন করে নিয়ে যায় দুস্কৃতীরা। তারপর আসানুল মন্ডল, রাজা মন্ডল, সেখ হাসিবুল সহ দলবল কলমডাঙা গ্রামে এলোপাথাড়ি পেটে বুকে লাথি, ঘুষি মারে। মাটিতে ফেলে পা দিয়ে থেঁতলে মারধর করে। মারধরের জের বেহুঁশ হয়ে পড়েছিলাম। পরে এলাকার কয়েকজন মুখে জল দেয়। ততক্ষনে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।" ঘটনার খবর পেয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী, কমব্যাট ফোর্স পৌঁছায়এলাকায়। প্রশ্ন, আজমের ওপর কেন হামলা?
প্রসঙ্গত, গত ২০২১ সালের ৭ সেপ্টম্বর অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে ফেরার পথে খুন হয় যুব তৃণমূল কর্মী তথা দেবশালা পঞ্চায়েত প্রধান শ্যামল বক্সীর ছেলে চঞ্চল বক্সী। সে আউশগ্রামের গেঁড়াইয়ে দলের কার্যকরী ব্লক সভাপতি লালন শেখের অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে তাঁর বাবাকে নিয়ে মোটরবাইকে করে ফিরছিল। ওইসময় মাঝপথে দুস্কৃতীরা গুলি করে খুন করে চঞ্চলকে। ঘটনায় ধরা পড়ে কলমডাঙা গ্রামের তৎকালীন তৃণমূলের দাপুটে নেতা কাদের মন্ডলের ছেলে আসানুল মন্ডল ও তৃণমূলের দেবশালা পঞ্চায়েতের সদস্য মনির হেসেন, বিশ্বরূপ মন্ডল নামে অপরজন দেবশালা অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি হিমাংশু মন্ডলের ছেলে। ঘটনার পরই তাদের দল থেকে বহিস্কার করা হয়। পরে জামিনে ছাড়া পায় ওই তিনজন। তারপর থেকেই এলাকায় চাপা ক্ষোভ চলছিল দুগোষ্ঠীর মধ্যে। প্রশ্ন, কে এই আসানুল? জানা গেছে, আসানুল মন্ডলের বাবা কাদের মন্ডল, একসময় সিপিএম করত। পরে তৃণমূলে যোগ দেয়। এবং কাদের মন্ডলের স্ত্রী সাকিলা মন্ডল ২০১৩ সালে নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যা ছিলেন। তারপর আবারও দল ছাড়ে কাদের মন্ডল। এবং ২০১৭ সালে পঞ্চায়েত ভোটের আগে পুনরায় তৃণমূলে ফেরেন। কাদের মন্ডলের পুনরায় দলে ফেরানো আপত্তি তুলেছিলেন শ্যামল বক্সী। শ্যামলবাবু আক্ষেপ করে বলেছিলেন" কাদের যোগদানের পরই দেবশালা অঞ্চলে দলে অশান্তি শুরু হয়। ২০১৮ সালে কাঁকোড়াতে ১০০ দিনের সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে চরম অশান্তি বাঁধে। ওই সময় চারজনের মধ্যে তাদের দাবী মেনে একজনকে নেওয়া হয়। পরে দেবশালা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছেলে চঞ্চলের ওপর হামলা করে কাদেরের লোকজন। ছেলেকে রাস্তা ফেলে নির্মমভাবে পিটিয়ে ছিল। তখন কাদের সহ পুলিশে ৫ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছিলাম।" তারপর ২০২১ সালে খুন হতে হয় শ্যামলবাবুর ছেলে চঞ্চল বক্সীকে।
জানা গেছে, মৃত চঞ্চল বক্সীর বাবা শ্যামল বক্সীকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে ছিল আজম মোল্লা। দল থেকেই সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আর তাতেই আক্রোশ কাদের মন্ডল গোষ্ঠীর। এদিন আক্রান্ত আজম জানান," মারধর করার সময় দুস্কৃতীর বার বার বলছিল, শ্যামল বক্সী কি তোর বাপ?" তবে চঞ্চল বক্সী খুনের পর তৃণমূল নেতৃত্ব আসানুলদের বহিস্কার করলেও, জঙ্গলমহলের অশান্তির অভিযোগ বার বার তাদের দিকেই উঠে এসেছে। প্রশ্ন, কাদের মদতে আসানুলদের দাপট? দেবশালাসহ জঙ্গলমহলকে কি ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্ব? আর তার জন্য শ্যামল বক্সী সহ তাঁর অনুগামীদের টার্গেট করছে কাদের মন্ডল ও আসানুল গোষ্ঠী? যদিও সেসব তদন্ত সাপেক্ষ। ঘটনার পর থেকে কার্যত পুরুষ শূন্য কাদের মন্ডলের গ্রাম কলমডাঙা। আউশগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডার জানান," পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।" বুদবুদ থানার পুলিশ জানিয়েছে, "ঘটনার তদন্ত চলছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।"
