
দার্জিলিং, ২৮ ডিসেম্বর : দার্জিলিং পুরসভায় আস্থা ভোটে যোগ দিল না হামরো পার্টি। অনুপস্থিত থাকলেন হামরো পার্টির ১২ এবং বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার তিনজন কাউন্সিলর। তৃণমূলের দু'জন কাউন্সিলর এবং অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার কাউন্সিলররা আস্থা ভোটে যোগ দিয়েছেন।
২০২২-এর পুরভোটে দার্জিলিংয়ের ৩২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতেই জয়ী হয় হামরো পার্টি। নয়টি আসনে জেতে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা পায় তিনটি আসন। দু'টি আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। নয় মাসের মধ্যেই হামরোর ছয় জন কাউন্সিলর অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চায় যোগ দেন। এর পর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চেয়ে নোটিস দেন প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার ৬ জন কাউন্সিলর। তার প্রেক্ষিতেই বুধবার দার্জিলিং পুরসভায় হল আস্থা ভোট।
দল তৈরির চার মাসের মধ্যেই চলতি বছর পুরভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ৩২ আসনের দার্জিলিং পুরসভায় বোর্ড গঠন করে অজয় এডওয়ার্ডের হামরো পার্টি। তার ন'মাসের মধ্যেই হামরোর ছয় জন কাউন্সিলর অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চায় যোগ দেন। তার পর গত ২৪ নভেম্বর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চেয়ে নোটিস দেন প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার ছয় জন কাউন্সিলর।
এর পর, ১৫ দিনের মধ্যে মিটিং না ডাকায় গত ১৩ ডিসেম্বর ফের ভাইস চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানানো হয়। তাতেও কাজ না হওয়ায়, বুধবার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় বসেন কয়েকজন কাউন্সিলর। অনাস্থা আটকাতে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চে যায় হামরো পার্টি। তাদের দাবি, অনাস্থা আনতে গেলে এক তৃতীয়াংশ কাউন্সিলরকে নোটিস দিতে হবে।
যদিও সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশক চন্দ হামরো পার্টির আর্জি খারিজ করে জানিয়ে দেন। জানিয়ে দেন, পুর-আইন মেনেই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। এটা চেয়ারম্যানের ব্যর্থতা, যে তিনি মিটিং ডাকেননি। ফলে, বুধবার অনাস্থা প্রস্তাব আনতে কোনও বাধা উঠে যায়।
