
রামপুরহাট, ১৭ ডিসেম্বর : বগটুইকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত লালন শেখের মৃত্যুর তদন্তে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গেল সিআইডি। শনিবার সকালে বগটুই গ্রামে পৌঁছে সিআইডি আধিকারিকরা শুরু করে জিজ্ঞাসাবাদ।অন্যদিকে লালন শেখের প্রিয় কুকুরটিকে এবার ঘরে ফিরে পেতে চাইছে তার মেয়ে, তার স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার থেকেই লালন শেখের সিবিআই হেফাজতে রহস্যমৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। এই মামলার তদন্তে নেমে শুক্রবার ও বগটুই গ্রামে মৃত লালনের বাড়ি গিয়েছিলেন সিআইডির আধিকারিকরা। তাঁর স্ত্রী রেশমা বিবির বয়ান রেকর্ড করা হয়। এবার লালনের শ্বশুরবাড়িতে গেলেন সিআইডির প্রতিনিধিরা।লালনের স্ত্রী আগেই দাবি করেছেন, সিবিআই লালনকে ‘মেরে ফেলেছে’। ঘটনার রাতে রামপুরহাট হাসপাতালে কাঁদতে কাঁদতে রেশমা বলেছিলেন, ‘‘সিবিআই আজ আমার স্বামীকে গ্রামে নিয়ে এল। সিবিআই মেরে দিল ওঁকে।’ রেশমা আরও অভিযোগ করেন , বগটুই গ্রামেই তাঁর বাপের বাড়িতে এসে হুমকি দিয়েছিলেন সিবিআইয়ের কয়েক জন আধিকারিক। তাঁদের কাছে হার্ড ডিস্ক চাওয়া হয়। না দিতে পারায় ৫০ লক্ষ টাকা দিতে বলা হয়। এরপর আসবাবপত্র ভাঙচুর করে হুমকি দিয়ে ওই আধিকারিকরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন রেশমা।এই অভিযোগের ভিত্তিতেই সিআইডি কর্তারা এদিন লালনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।লালনের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার দুপুরে লালনকে গ্রামে নিয়ে গিয়ে কি করেছিল। কোথায় দাঁড় করে রেখেছিল। সেই সমস্ত বিষয় জানতে চান তাঁরা। লালনের স্ত্রীকে দিয়ে সেই দিনের সিবিআইয়ের গতিবিধি দেখানোর কথা বলেন। সম্পূর্ণ বিষয়টি ভিডিওগ্রাফি করে রাখা হয়। গ্রামবাসীদের সঙ্গেও কথা বলেন সিআইডি আধিকারিকরা। তবে সংবাদ মাধ্যমের কাছে কোন কথা বলেননি তাঁরা। এদিন লালনের স্ত্রী রেশমা বিবি বলেন, “সিআইডির তদন্তে আমরা খুশি। তাঁরা সঠিক তদন্ত করছে। আমি সব কথা তাদের জানিয়েছি। গ্রামবাসীরাও ঘটনার দিন স্বামীকে কিভাবে নিয়ে এসেছিল সে কথা জানিয়েছে”। যদিও গ্রামবাসীরা কেউই এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি।
