
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্যের সবচেয়ে ভিআইপি নিশ্চই মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নিরাপত্তা সবার প্রথমে দেখা উচিত । যদিও আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হামেশাই নিরাপত্তার গন্ডি ডিঙিয়ে আপামর মানুষের কাছে চলে যান। কিন্তু পুলিশের দায়িত্ব তাঁকে সঠিক নিরাপত্তা দেওয়া। ইতিমধ্যে একবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ঢুকে পড়েছিলেন এক ব্যক্তি। সেই ঘটনায় সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। চর্চা আরও বাড়ে, ওই ব্যক্তির হাতে লোহার রড ছিল, এমন খবর প্রকাশ্যে আসার পরে। ওই ব্যক্তি সারা রাত মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের ঠিক বাইরেই এক জায়গায় লোহার রড নিয়ে বসে ছিলেন বলেও খবর মেলে। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ‘ডিরেক্টরেট অব সিকিয়োরিটি’র কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়। সেই ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে আরো চিন্তিত হয়ে পড়েন নিরাপত্তা বাহিনী।
নতুন প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে এবার অনেক জোদ্দার ইন্সট্রুমেন্ট লাগানো হয়েছে। এই নয়া ব্যবস্থার অঙ্গ হিসাবে ৩০টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সেখানে এক-একটি খুঁটির সঙ্গে উঁচু জায়গায় ক্যামেরা ও সেন্সর লাগানো ডিভাইস বা বৈদ্যুতিন যন্ত্র বসানো থাকছে। ক্যামেরায় ছবি তোলার পাশাপাশি সেন্সরের আওতায় কেউ ঢুকলেই সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা যাবে। যা খতিয়ে দেখে পুলিশ জরুরি পদক্ষেপ করতে পারবে তৎক্ষণাৎ। এই ব্যবস্থায় কোনও গাড়ি সেন্সরের মধ্যে দিয়ে গেলে তার সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বরও কন্ট্রোল রুমে পৌঁছে যায়। ফলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।
মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকা খরচ করে এমন একটি নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যা সজাগ থাকবে সর্বক্ষণ। নজরদারিতে মানুষের ভুল হলেও জানান দেবে যন্ত্র। বড়ো পুলিশকর্তা জানান,"ওই এলাকায় গেলেই বোঝা যাবে, নিরাপত্তার বন্দোবস্ত কতটা আঁটসাঁট। রাতে তো দূর, দিনেও কেউ বিনা কারণে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির গলিপথে ঘোরার সুযোগ পান না।’’ সেই সঙ্গেই ওই পুলিশকর্তা জানান, কড়া নজরদারি চালানোর জন্য জরুরি একটি কন্ট্রোল রুম ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই শেষ হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা লাগানোর কাজ। স্বাভাবিক কারণেই মানুষ অনেকটা আশ্বস্ত হয়েছেন। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার উপর বিশেষ জোর দেওয়া উচিত।
