
দক্ষিণ দিনাজপুর, ১২ ডিসেম্বর : স্থানীয় ডাঙ্গা পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রক্রিয়া ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বালুরঘাট। আহত হন স্বয়ং বিডিও। সোমবারের ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় বালুরঘাট বিডিও অফিস চত্বরে।
এদিন সকাল থেকেই পঞ্চায়েতে অনাস্থা প্রক্রিয়া ঘিরে পুলিশি ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয় পঞ্চয়েত দফতর লাগোয়া গোটা এলাকা। অনাস্থা প্রক্রিয়া ভেস্তে দেওয়ার অভিযোগে বিডিওর কাছে নালিশ করতে যান বিজেপির নেতা কর্মীরা। সেখানেই একজন বিডিওর উপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ।
সোমবার ডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির প্রধানকে অপসারনের জন্য আনা অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন প্রশাসনের পাঠানো আধিকারিকরা। অভিযোগ, সেখানে অনাস্থা প্রস্তাবের বৈঠকে মৃত সদস্যকে জীবিত দেখিয়ে গননা করার অভিযোগ উঠেছিল আধিকারিকের সামনেই। পাশাপাশি বৈঠকের মধ্যে পুলিশ ঢুকিয়ে বিজেপির মহিলা সদস্যদের হেনস্থা করা হয় বলে বিরোধী দলের নেতাদের দাবি। আর তার জেরেই উত্তেজনা বালুরঘাটের ডাঙ্গা পঞ্চায়েত এলাকায়।
বিরোধীদের অভিযোগ,মৃত পঞ্চায়েত সদস্যকে জীবিত বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছিল ওই বৈঠকে।বিজেপির সদস্যদের অভিযোগ, ২০ সদস্যের এই গ্রাম পঞ্চায়েতে তাদের পক্ষে ছিলেন ১১ জন সদস্য। তাদের প্রধান পরে তৃণমুলে যোগদান করায় তারা ওই প্রধানের অপসারন চেয়ে অনাস্থা আনেন। কিন্তু প্রশাসনের আধিকারিকরা তা বারে বারে নানা অছিলায় হতে দিচ্ছেন না।
অশান্তির সময় বিডিও-র মাথায় চেয়ার তুলে আঘাত করে একদল দুষ্কৃতী। প্রাণ বাঁচাতে হাত দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি, অল্প হলেও রক্তাক্ত হয়েছেন বিডিও অনুজ শিকদার। মাথায় আঘাত লাগার পাশাপাশি তাঁর হাতের একটি আঙুল সামান্য কেটে গিয়েছে বলে অভিযোগ। প্রশাসনিক ভবনে এমন ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে।
জেলা বিজেপি নেতৃত্ব ও গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের দাবি, অক্টোবর মাসে বিপক্ষের এক সদস্য মারা যান, তার ডেথ সার্টিফিকেট রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে, ফলে ২০ জন সদস্যের মধ্যে একজন কমে হয়েছে ১৯। তা সত্ত্বেও বিজেপির সংখ্যা ১০ থাকায় তারাই ইতিমধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু সোমবারের অনাস্থা বৈঠকে সরকারি আধিকারিকরা ওই মৃত সদস্যকে জীবিত হিসেবে দেখানোয় বিজেপির গ্রাম সদস্যরা প্রতিবাদ জানান বলে অভিযোগ।
