
বীরভূম, ১৩ ডিসেম্বর : সিবিআই হেফাজতে লালন শেখের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরই আশঙ্কায় ভুগছেন বগটুই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত আনারুল হোসেন। তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বা তাঁকে অন্য জেলে সরানোর আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা।
এই মুহূর্তে রামপুরহাটের জেলে বন্দি রয়েছেন আনারুল। কিন্তু সেখানে তাঁর যা নিরাপত্তা আছে, তা যথেষ্ট নয় বলেই দাবি করছে তাঁর পরিবার। ইতিমধ্যেই আনারুলের আইনজীবীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
তৃণমূল নেতা ভাদু শেখ খুনের পর সেই রাতে বীরভূমের বগটুইতে যে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিল, তাতে অভিযুক্ত হিসেবে লালন শেখের পরই আনারুলের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল বলে মনে করেন গোয়েন্দারা। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূল নেতা আনারুলকে গ্রেফতার করা হয়। সিবিআই-এর চার্জশিটেও আনারুলকে অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার তাঁর আইনজীবী জানান, লালন শেখের মৃত্যুর পর আনারুলের পরিবার ভয় পাচ্ছে। আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা বলেন, ‘হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল, তবে বেআইনিভাবে তদন্ত করতে বলেনি আদালত। এই তদন্ত সম্পন্ন হওয়া খুব জরুরি।’
প্রসঙ্গত, আনারুল শুধু এই মামলার অন্যতম অভিযুক্তই নয়, অন্যতম সাক্ষীও বটে। সেই রাতে কী হয়েছিল, বাড়িতে বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার কাজ কারা করেছিল, তা জানতে আনারুলের বয়ান গোয়েন্দাদের জন্য খুব জরুরি। সে কারণেই আনারুলের নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
