
কলকাতা, ৮ আগস্ট: এই নয়। কর্মসংস্কৃতির কথা আগেও একাধিকবার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেমন বলেছেন পশ্চিমবঙ্গে তাঁর দুই পূর্বসূরী জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু সবই থেকে গিয়েছে তাঁদের মুখের কথায়।
সরকারি কাজ ফেলে রাখা চলবে না। বারবার একথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীরা। এবার কাজ শেষের সময়সীমা বেঁধে দিলেন মমতা। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা কোনও প্রকল্প ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সেই রিপোর্ট দিতে হবে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে। ৬ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে তা বাস্তবায়িত করতে হবে। সরকারি দফতরে কর্মসংস্কৃতির হাল ফেরাতে অনেক আগেই কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কর্মীদের যথাসময়ে হাজিরা সুনিশ্চিত করতে হাজিরা খাতার বদলে বিভিন্ন সরকারি অফিসে বসানো হয়েছে বায়োমেট্রিক কার্ড ব্যবস্থা। কিন্তু তার পরেও কি কর্মসংস্কৃতির গতানুগতিক ধারায় কিছু বদল এসেছে?
২০২১-এর নভেম্বর মাসে প্রকাশিত হয় দেশের ‘সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল আরবান ইনডেক্স’। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের নিরিখে দেশের কোন শহর কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাই বোঝার চেষ্টা করা হয় ওই সমীক্ষায়। আর এর মধ্যে অবশ্যই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায় কর্মসংস্থান এবং কর্মসংস্কৃতি। কলকাতা ছিল সবার নিচে।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাজের মান এবং পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বাম আমল হোক, বা তৃণমূল জমানা, পরিস্থিতির বিশেষ ফারাক চোখে পড়ে না। সরকারি কর্মীরা নাকি সময়ে অফিসে ঢোকেন না, বেরিয়েও যান আগেভাগে। এমনকী, টিফিন খাওয়ার নাম করে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করারও অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যের সেই ‘বেহাল’ কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে গত মে মাসে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা ঘোষণা করে রাজ্য। রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রতিদিনের অফিসে উপস্থিতির সময়, ছুটি, এমনকী, লাঞ্চ ব্রেকের ক্ষেত্রেও এবার রীতিমতো নোটিস জারি করে সময় বেঁধে দেওয়া হয় সরকারের তরফে। এই চেষ্টাও ধোপে টেঁকেনি।
গত ২০ মে এ বিষয়ে একটি নোটিস জারি করা হয় নবান্নের তরফে। অর্থ দফতরের তরফে মেমোরান্ডাম জারি করে সরকারি অফিসে কর্মদক্ষতা এবং শৃঙ্খলা উন্নত করার জন্য, এবং ঝামেলা এড়াতে বেশ কিছু নয়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়। উপস্থিতি এবং সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর আবারও জোর দেওয়া হয়।
ওপরমহল থেকে পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, প্রধান দফতরের পূর্ব অনুমতি ছাড়া অফিস চলাকালীন কোনও কর্মী বাইরে যেতে পারবেন না। এছাড়া টিফিন খাওয়া শেষ করতে হবে দুপুর ১.৩০ মিনিট থেকে ২.০০টোর মধ্যে। এবং এই টিফিন বিরতির সময়টুকু শুধুমাত্র খাবার খাওয়ার জন্যই বরাদ্দ। সেই সময়টিকে অন্য কোনও উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো যাবে না। এসবেও কোনও কাজ হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক কাজে সফল বা আংশিক সফল হলেও কর্মসংস্কৃতি আনতে সফল হননি। খোদ নবান্নেই দেখা যায় ১১টার সময় ঢুকছেন বহু বিভাগের কর্মী। মাঝে কাজে সময়েও ঢিলেঢালা ভাব।
এর একটা বড় কারণ, কাজে নিষ্ঠা নয়, আনুগত্যটাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয় কোনও কর্মী-অফিসারের মূল্যায়ণে। পর্যাপ্ত স্বীকৃতি দেওয়া হয়না কাজের। ফলে, আসি যাই মাইনে পাই মনোভাবটা আরও চেপে বসেছে কর্মীদের মধ্যে। বাম আমলের মত এই জোড়াফুলের আমলেও তার অন্যথা হচ্ছে না।
