
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিয়ের পর নানা ধরনের আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দাম্পত্য জীবন। অনেক ক্ষেত্রেই এই আচারগুলির মধ্যে লুকিয়ে থাকে প্রতীকী বার্তা—যেমন, সঙ্গীর দোষত্রুটি আড়াল করে সম্পর্ককে ধরে রাখার মানসিকতা। কিন্তু বাস্তব জীবনে কি সত্যিই এমন মানুষ পাওয়া যায়, যারা সবকিছু চেপে রেখে সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখে?
বর্তমান প্রজন্ম, বিশেষত জেন জি-র সম্পর্কের অভিধানে উঠে এসেছে একটি নতুন শব্দ—‘ইজি পার্টনার’। এই ধরনের সঙ্গীরা সাধারণত ঝামেলা এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য, তাই অপ্রয়োজনীয় তর্ক বা মতবিরোধে জড়াতে চান না। এমনকি অনেক সময় নিজের অনুভূতি বা মতামতও গোপন রেখে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেন।
∆ এবার একনজরে দেখে নেওয়া যাক, ‘ইজি পার্টনার’ হওয়া ঠিক কতটা ক্ষতিকারক।
* ‘ইজি পার্টনারে’র বিপরীতে থাকা মানুষ নিজের চাহিদা সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। শুধু তাই নয়, তাঁদের মধ্যে চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও থাকে। আর ‘ইজি পার্টনার’রা সব সহ্য করে নেন। সেক্ষেত্রে তাঁর নিজের পছন্দ, অপছন্দ জলাঞ্জলি দিতে দিতে অনেক সময় তাঁর আত্মসম্মানও নষ্ট হতে থাকে।
* অনেক সময় দেখা যায় ‘ইজি পার্টনার’ তাঁর ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছেন। তার ফলে নিজেই যেন নিজেকে আর চিনতে পারেন না। তার ফলে ক্রমশ নিজের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। সংশয়ে বাঁচেন ‘ইজি পার্টনার’।

* ‘ইজি পার্টনার’রা তাঁদের নিজের অনুভূতিকে লুকিয়ে রাখেন। তার ফলে একসময় সেই অনুভূতিকে ক্ষোভে রূপান্তরিত হয়। তার ফলে কখন যে দু’টি মানুষের মধ্যে কয়েক যোজন দূরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছে, তা বোঝাও সম্ভব হয় না। সেই সময় সম্পর্কের ভিতরে আর প্রাণ থাকে না।
* দু’জনের মতামতের ফলে একটি সম্পর্ক ভিত মজবুত হয়। তা না হলে সম্পর্ক যেন বোঝার মতো মনে হয়। তাই এভাবে একতরফা সম্পর্ককে এগিয়ে যেতে দেবেন না। ‘ইজি পার্টনার’ হওয়ার বদলে দু’জনে মিলেমিশে এগিয়ে চলুন। তাতে সম্পর্কের ভিত আরও শক্তপোক্ত হবে।
অর্থাৎ, ‘ইজি পার্টনার’ হওয়া যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। সম্পর্ক বাঁচাতে গিয়ে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলা যেন না হয়—সেই সতর্কবার্তাই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
