
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: "রমজ়ান মানেই কেবল উপবাস নয়, ইফতার ও সেহরিতে জিভে জল আনা সব পদের সমাহার। এই সময়েই শহরের অলিগলি ম ম করে নল্লী নিহারীর সুগন্ধে। উর্দু 'নাহার' শব্দ থেকে আসা এই পদের জন্ম মূলত আঠারো শতকের দিল্লির রাজকীয় হেঁশেলে। নলির হাড়ের মজ্জা আর মশলার মিশেলে তৈরি এই ঘন ঝোল যখন গরম খামেরি রুটির সাথে মুখে পড়ে, তখন স্বাদের যেন স্বর্গীয় অনুভূতি হয়। সারারাত ধরে নিভু নিভু আঁচে রান্নার সেই ধৈর্যের ফসলই হলো এই নিহারী। আপনি যদি খাঁটি মোগলাই খানা পছন্দ করেন, তবে এই রমজ়ানে শহরের সেরা ঠিকানাগুলো আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
মান-ও-সালভা (পার্ক সার্কাস):
খুব একটা চেনা রেস্তরাঁ না হলেও এখানকার নিহারীর স্বাদ বেশ ভাল। সারা রাত ধরে এই নিহারী রান্না করা হয়। মাংসটা এতটাই নরম হয় যে মুখে দিলেই মিলিয়ে যাবে। ঝোলে মশলার স্বাদ একেবারে পরিমিত, খুব একটা চড়া নয়। রুটি হোক বা পরোটা, ঝোলে ডুবিয়ে খেলেই মুখে লেগে থাকবে।
মনঞ্জ়িলত’স (রুবি, আনন্দপুর):
বাড়ির ছাদেই খুলেছে রেস্তরাঁ। না এ ঠিক চিরাচরিত রেস্তরাঁ নয়। এখানে কলকাতার বিরিয়ানি নিয়ে আসার জন্য বিখ্যাত ওয়াজিদ আলি শাহের বংশধর মনঞ্জ়িলত ফাতিমা নিজের হাতে রান্না করে নিজেই পরিবেশন করেন রকমারি অওধি খানাপিনা। সেই ঠিকানায় গেলেই চেখে দেখতে পারেন দারুণ সুস্বাদু নিহারী। পদটির উপর লেবু, কাঁচালঙ্কাকুচি আর আদার কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করা হয়। নরম তুলতুলে নিহারীর মাংসের সঙ্গে খেতে পারেন খাস্তা ডালপুরি।
সুফিয়া (জ়াকারিয়া স্ট্রিট):
১৫০ বছরের পুরনো এই দোকানের নিহারীর স্বাদের কোনও তুলনা নেই। ভোর ৪টে থেকে এই দোকানের নিহারী খাওয়ার জন্য দোকানের বাইরে লম্বা লাইন পড়ে। খুব পাতলা নয়, আবার খুব বেশি ঘনও নয়। এখানকার নিহারীর ঝোলের স্বাদ আর পাঁচটা রেস্তরাঁ বা দোকানের থেকে অনেকটাই আলাদা। মশলাপাতির উগ্র গন্ধ নেই। দেখতে হালকা লাগলেও এক বার খেয়ে নিলে সারা দিন পেট ভরাট থাকবে। ডালপুরির সঙ্গে মেলবন্ধনটা মন্দ হবে না।
