
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাঙালির রান্নাঘরে চাল না থাকলে যেন চলেই না। প্রতিদিনের ভাত থেকে পোলাও—সবকিছুরই মূল উপাদান এই চাল। তাই অনেকেই একসঙ্গে বেশি করে চাল কিনে মজুত করে রাখেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় সংরক্ষণে। কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই চালের ড্রামে পোকা দেখা যায়। আর্দ্রতা, বাতাস চলাচলের অভাব বা ভুল পদ্ধতিতে রাখার কারণেই এই সমস্যা বৃদ্ধি পায়। তবে সুসংবাদ হল, চাল ভালো রাখতে সবসময় দামি কেমিক্যাল বা বিশেষ কন্টেনারের দরকার নেই। বাড়ির সাধারণ কিছু উপাদান ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন চাল সতেজ রাখা সম্ভব।
১) চাল রাখার জন্য সবার আগে প্রয়োজন একটি সঠিক পাত্র। চাল সবসময় প্লাস্টিক বা স্টিলের এয়ারটাইট কন্টেনারে রাখুন। আর্দ্রতা হল পোকাদের প্রিয় বন্ধু। তাই চাল রাখার আগে নিশ্চিত করুন পাত্রটি যেন ভেতর থেকে একদম শুকনো থাকে। পাত্রের মুখ সবসময় শক্ত করে আটকে রাখুন। যাতে বাইরের বাতাস বা জলীয় বাষ্প ভেতরে না ঢোকে। এতে পোকামাকড় হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।
২) বহুকাল ধরে গ্রামবাংলায় চাল সংরক্ষণে নিম পাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিম পাতার তীব্র তেতো গন্ধ এবং অ্যান্টি-সেপটিক গুণ পোকা তাড়াতে ওস্তাদ। চালের ড্রামের মধ্যে কয়েকটি শুকনো নিম পাতা দিয়ে রাখুন। এই গন্ধে চালের পোকা ধারেকাছে ঘেঁষার সাহস পাবে না। চাল এবং ডাল উভয় ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
৩) যদি দেখেন চালে হালকা আর্দ্রতা ভাব আছে, তবে দেরি না করে কড়া রোদে দিন। সূর্যের আলো চালের ভেতরের আর্দ্রতা শুষে নেয়। মাসে অন্তত একবার চাল রোদে দিলে পোকা জন্মানোর ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া পোকা ধরে গেলেও চাল কিছুক্ষণ রোদে ছড়িয়ে রাখলে সেগুলো নিজে থেকেই পালিয়ে যায়। সংরক্ষণের আগে চাল পুরোপুরি ঠান্ডা করে তবেই পাত্রে ভরুন।
৪) চালের ড্রামে ৮-১০টি লবঙ্গ বা এক মুঠো গোলমরিচ ছড়িয়ে দিন। লবঙ্গ ও গোলমরিচের কড়া গন্ধ পোকার বংশবৃদ্ধি রোধ করে। দীর্ঘ সময়ের জন্য চাল জমিয়ে রাখতে চাইলে এই পদ্ধতিটি সবচেয়ে কার্যকর। এতে চালের গুণমানও নষ্ট হয় না।
চাল মজুত রাখার আগে রোদে হালকা শুকিয়ে নিলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়। এই সহজ ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চললে সারা বছর চাল থাকবে ঝরঝরে ও পোকামুক্ত।
