
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সন্ধ্যা হলেই মুখে কিছু হালকা ও সুস্বাদু খাবারের ইচ্ছে প্রায় সকলেরই হয়। তবে সেই টিফিন যদি হয় স্বাস্থ্যকর, তাহলে তো কথাই নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজলভ্য ও পরিচিত খাবার মুড়ি হতে পারে একটি আদর্শ হেলদি স্ন্যাকস।মুড়ি মূলত হালকা এবং কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার। এতে থাকে কার্বোহাইড্রেট, সামান্য প্রোটিন এবং কিছুটা ফাইবার, যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায় কিন্তু অতিরিক্ত ওজন বাড়ায় না। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা ডায়েট মেনে চলছেন, তাদের জন্য মুড়ি হতে পারে দারুণ বিকল্প। পাশাপাশি সঠিক উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে মুড়ি একটি স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার হতে পারে।
* মুড়ির সঙ্গে চিনাবাদাম- চিনাবাদামের সঙ্গে এটি খাওয়ার উপকারিতা জেনে নেওয়া যাক। চিনাবাদাম মুড়ির স্বাদও পুষ্টিগুণ দুটোই বাড়িয়ে তোলে। এটি প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বিতে ভরপুর এবং এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে যা শরীরকে প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। মুড়ি এবং চিনাবাদাম লবণ, গোলমরিচ এবং সর্ষের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে একটি সুষম ও টেস্টি জলখাবার তৈরি করা যায়।
* দইয়ের সঙ্গে মুড়ি- পেটের জন্য খুব উপকারী। দইয়ের প্রোবায়োটিক হজমশক্তি উন্নত করে এবং অস্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এতে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন এবং ভিটামিনও রয়েছে। মুড়ির সঙ্গে দই, লবণ এবং মশলা মিশিয়ে ঠান্ডা ও স্বাস্থ্যকর জলখাবার তৈরি করা যেতে পারে।
* মুগ ডালের অঙ্কুরের সঙ্গে মুড়ি- মুগ ডালের অঙ্কুরের সঙ্গে মুড়ি মিশিয়ে একটি প্রোটিন সমৃদ্ধ চাট তৈরি করা যায়। মুগ ডালের অঙ্কুর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ইনসুলিনের মাত্রা উন্নত করতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে পেঁয়াজ, টমেটো এবং লেবু যোগ করে ভাল করে মিশিয়ে একটি পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়।
* সবজির সঙ্গে মুড়ি- শসা, টমেটো এবং পেঁয়াজের মতো কাঁচা সবজি ফাইবার এবং ভিটামিনে ভরপুর। মুড়ির সঙ্গে সবজি মিশিয়ে একটি কম-ক্যালোরি এবং পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা যায়। সামান্য লবণ, মশলা এবং সর্ষের তেল যোগ করলে এর স্বাদ আরও বেড়ে যায়। পাশাপাশি মুড়ির সঙ্গে ঘুগনি ও অন্য তরকারি দিয়ে খাওয়াও বাংলার রীতি। বাংলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরণের টিফিন করা হয়।
* গুড়ের সঙ্গে মুড়ি- মুড়ি এবং গুড়ের লাড্ডু শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং শক্তিদায়কও। গুড়ে আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থ থাকে, যা শক্তি জোগায় এবং রক্ত পরিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে। এই খাবার বিশেষ করে শীতকালে উপকারী। তবে দেখতে হবে, গুড় যেন খাটি হয়।
তবে কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই মুড়ি এড়িয়ে চলাই ভাল। প্রয়োজনে ডাক্তারের থেকে পরামর্শ নিয়ে এভাবে মুড়ি খেতে পারেন। তবে সন্ধ্যার ক্ষুধা মেটাতে এবার বেছে নিন মুড়ি—সহজ, সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর এক বিকল্প।
