
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ত্বক ভালো রাখতে অনেকেই ভরসা করেন দামী প্রসাধনীর উপর। কিন্তু তবুও কেন অকালেই চোখে-মুখে পড়ছে বয়সের ছাপ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে বড় কারণ লুকিয়ে থাকে আমাদের প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসে, যা অজান্তেই ত্বকের ক্ষতি ডেকে আনে। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট ভুল—যেমন পর্যাপ্ত জল না খাওয়া, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত রোদে থাকা বা ঠিকমতো ত্বক পরিষ্কার না করা—ধীরে ধীরে ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা নষ্ট করে দেয়। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে শুষ্ক, ক্লান্ত এবং নিস্তেজ। একই সঙ্গে দ্রুত দেখা দেয় বলিরেখা ও সূক্ষ্ম রেখা।
∆ রোজের কোন কোন অভ্যাসে ত্বকে অকালবার্ধক্য দেখা দিচ্ছে?
১. সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা: রোদ থেকে সুরক্ষা না নেওয়ার অভ্যাসে ত্বকের ক্ষতি হয়। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি ত্বকের কোলাজেন ভেঙে দেয়, ফলে দ্রুত বলিরেখা ও দাগ তৈরি হয়। প্রতি দিন সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলে এই ক্ষতি বাড়তে থাকে এবং বয়সের ছাপ দ্রুত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রৌদ্রোজ্জ্বল দিন ছাড়া মেঘলা দিনেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়।
২. মিষ্টি খাওয়ার তাগিদ: অতিরিক্ত চিনি বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বেড়ে গিয়েছে কি? বেশি চিনি শরীরে এমন প্রক্রিয়া তৈরি করে, যা কোলাজেনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে চামড়া দ্রুত ঢিলে হয়ে যায় এবং বলিরেখা বাড়ে।
৩. খারাপ বালিশে শোয়া: গভীর ঘুমে শরীর ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে নিজেকে সারিয়ে তোলে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চোখের তলায় কালি পড়ে এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য কমে যায়। নিয়মিত ৭-৯ ঘণ্টার ঘুম খুবই জরুরি। এ ছাড়া, উপুড় হয়ে বা এক দিকে চেপে ঘুমোলে ত্বকে বলিরেখা পড়ে। এর বদলে পিঠের উপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে ঘুমোনোর চেষ্টা করুন। আর সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করলে ত্বকে ঘর্ষণ কম হয় এবং ত্বক ভাল থাকে।
৪. অতিরিক্ত মুখ ঘষা: বার বার মুখ স্পর্শ করা বা রুক্ষ ভাবে ত্বক পরিষ্কার করার কারণেও মুখের বয়স বেড়ে যেতে পারে। এতে ত্বকের উপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সংবেদনশীলতা বাড়ে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি ত্বকের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করতে পারে।
৫. স্ক্রিনটাইম বাড়িয়ে দেওয়া: স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপ বা টেলিভিশন থেকে নির্গত নীল আলো ত্বকের গভীরে গিয়ে পৌঁছোয়। তাতে ত্বকে দাগছোপ বাড়তে থাকে। পাশাপাশি, কোলাজেন নষ্ট হতে থাকে এই কারণেই। ফলে মুখে বলিরেখা পড়ে যায় দ্রুত।
ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র প্রসাধনী নয়, সুস্থ জীবনযাপনই হতে পারে সুন্দর ত্বকের মূল চাবিকাঠি। নিয়মিত জলপান, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সঠিক স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চললেই অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব অকালবার্ধক্যের ছাপ।
