
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অফিস আর বাড়ির ব্যস্ত রুটিনে বন্দি আধুনিক চাকুরিজীবন। বিশেষ করে বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতদের ক্ষেত্রে সপ্তাহের ছুটির দিনটুকুও যেন চোখের পলকে কেটে যায়। ফলে শরীর ও মন—দুটোই ঠিকমতো বিশ্রাম পায় না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কর্মদিবসে, বিশেষত লাঞ্চের পরপরই। অফিসের কাজ শুরুটা যতই চাঙ্গা থাকুক না কেন, দুপুরের খাবারের পর অনেকেরই চোখে ভর করে ঘুম। পেটে ভাত পড়তেই শরীর যেন বিশ্রামের সংকেত দেয়। কিন্তু অফিসে বসে ঘুমোনো তো সম্ভব নয়। ফলে কেউ ডেস্কে বসেই ঝিমিয়ে পড়েন, আবার কেউ অতিরিক্ত চা বা কফির ওপর ভরসা করেন—যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘আফটারনুন স্লাম্প’ আসলে খুব স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রতিক্রিয়া। তবে কিছু অভ্যাস বদল করলে সহজেই এই সমস্যা কাটানো সম্ভব। যেমন—

* আসলে প্রায় সকলকেই কাজ করতে হয় কম্পিউটারে। একটানা স্ক্রিনে চোখ রাখলে স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে নার্ভ। ফলে বিশ্রাম চায় ব্রেন। খাওয়াদাওয়ার পর বাড়ে এই প্রবণতা। এক্ষেত্রে প্রথমেই যা করুন, প্রতি ২০ মিনিট অন্তর সামান্য সময়ের জন্য হলেও বিরতি নিন। একটানা তাকিয়ে থাকবেন না স্ক্রিনের দিকে। চোখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন।
* অনেকসময় দেখা যায় শরীরে জলশূন্যতার কারণে ঘুম পায়। কারণ, শরীরে জলের অভাব তৈরি হলে মস্তিষ্ক বিরতি চায়। সে আর সজাগ থাকতে চায় না। তাই সর্বদা হাতের কাছে রাখুন জল। কাজের ফাঁকে সামান্য করে জল খান। এতে ঝিমুনি তো কাটবেই। তার পাশাপাশি কাজের এনার্জিও পাবেন।
* অনেকেই আছেন যারা যারা একবার ডেস্কে নিজের সিটে বসে পড়লেন মানে কিছুতেই আর উঠতে চান না। এটা একেবারেই ঠিক না। ঘুম ঘুম ভাব হলেই সিট ছেড়ে উঠে পড়ুন। সহকর্মীদের সঙ্গে খানিকক্ষণ আড্ডা দিতে পারেন। জরুরি কোনও ফোন করার থাকলে পায়চারি করতে করতে সেটাও সেরে ফেলতে পারেন।

* ঘুম কাটাতে অব্যর্থ লেবু বা পিপারমিন্ট জাতীয় জিনিস। ঝিমুনি ভাব এলেই একটু গন্ধ শুঁকে নিন। দেখবেন নিমেষে ঘুম ঘুম ভাব কেটে যাবে। নতুন উদ্যামে ফের কাজ শুরু করতে পারবেন।
* এক্ষেত্রে ম্যাজিকের মতো কাজ করে ডিপ ব্রিদিং। কী করবেন? নিজের আসনে সোজা হয়ে বসুন। চোখ বন্ধ করে চার সেকেন্ড গভীর শ্বাস নিন। চার সেকেন্ড শ্বাস নেবেন, ৪ সেকেন্ড ছাড়বেন। দেখবেন নিমেষে ভ্যানিশ হয়ে যাবে ঢুলুঢুলু ভাব।
তাই লাঞ্চের পর ঝিমুনি আর নয়—ছোট ছোট পরিবর্তনেই মিলতে পারে বড় সমাধান। সতেজ থাকুন, কর্মক্ষম থাকুন।
