
কলকাতা, ১৯ এপ্রিল : জোড়াফুলে থাকার সময় ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’ নামে পরিচিত হয়েছিলেন তিনি। তারপর মুকুল রায় উড়ে গিয়েছিলেন পদ্মফুলে। ফের পদ্ম ছুঁড়ে বুকে নিয়েছিলেন জোড়াফুল। আবার দিল্লি গিয়ে লাফ দিলেন পদ্মপাতায়। এ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “স্মল ম্যাটার, বেটার টু ইগনোর“।
মুকুল রায় কোন দলে? তৃণমূলে? নাকি বিজেপিতে? এনিয়ে জল্পনা দীর্ঘদিনের। মুকুল রায় খাতায় কলমে বিজেপির বিধায়ক হলেও, তৃণমূল ভবনে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দিয়েছিলেন। কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুল রায় বুধবার সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক দাবি করলেন। বললেন, 'স্ত্রী তারপরে নিকট আত্মীয় বিয়োগ হলে যেমন একটা মানুষ স্থৈর্য হারিয়ে ফেলি, সেই সময়ের জন্য এটা হয়েছিল, এখন আর সেই জায়গা নেই। আমি বিজেপিতে ছিলাম, আছি, থাকব।'
মুকুলের এই মন্তব্যের পর একদা একান্ত আস্থাভাজন সম্পর্কে কী বললেন তৃণমূল দলনেত্রী? এই ‘ডিগবাজি’কে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে সেই কথাই জানালেন তিনি। বুধবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বলেন, 'মুকুল রায় কোথায় যাবেন সেটা তাঁর নিজের ব্যাপার। মুকুল রায় বিজেপির বিধায়ক আছেন'। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, 'তাঁর ছেলে যে অভিযোগ করছেন তার ভিত্তিতে পুলিশ ব্যবস্থা নেবেন। হতেই পারে যে ওঁকে ভয় দেখানো হয়েছে'।
মুখ্যমন্ত্রীকে মুকুল রায়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ' কে দিল্লি যাবে , না পাঞ্জাব যাবেন তাঁর অধিকার। উনি তো বিজেপির এমএলএ। ' সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ' ওঁর ছেলে বলেছে এফআইআরে আমার বাবা মিসিং। ২ লোক নিয়ে গেছে। এজেন্সির মাধ্যমে। তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞেস করুন। ও তো বিজেপিতেই রয়েছে। উনি বিজেপি এমএলএ। এ ব্যাপারে তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞেস করবেন।“
দিল্লিতে বাংলার শাসকদলের প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মুকুল রায়। বলেন , 'তৃণমূল যে কাজকর্ম করছে তা বাংলার পক্ষে ভাল নয়। একাধিক নেতা জেলে আছেন, এর খেসারত দিতে হবে'। সেই সঙ্গে বললেন, '‘যে দুর্নীতি করেছে, তাঁকেই দায় নিতে হবে। পঞ্চায়েত ভোটে পরিবর্তন চাইব। বাংলায় অসহনীয় অবস্থা, পরিবর্তন চাইছি' দিল্লি গিয়ে মন্তব্য কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুল রায়ের। তিনি আরও বলেন, 'অমিত শাহের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে শাহ বা জেপি নাড্ডা কারুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। অমিত শাহ-জেপি নাড্ডার হাতে সুরক্ষিত বিজেপি।”
