
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ঘরের মেঝেতে পড়েছিল প্রৌঢ়ের দেহ। নাকের খুবলানো অংশ দিয়ে রক্তের স্রোত। মঙ্গলবার সকালে কসবার রাজডাঙা মেন রোডে একটি ভাড়ার ঘরে এমনই দৃশ্য দেখে চমকে উঠেছিলেন মৃতের এক বন্ধু। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ও থানায় খবর দেন ওই ব্যাক্তি। খবর পেয়েই প্রৌঢ়ের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যাক্তির নাম মোহন শর্মা, বয়স ৬৫। বিহারের বাসিন্দা ছিলেন মোহন নামের এই ব্যাক্তি। কসবায় যে বাড়িতে মোহন ভাড়া থাকতেন, সেই বাড়ির মালিক রীতা দাসের কথায়, ‘‘মোহন রোজ ভোরে ঘুম থেকে উঠে পুজো দিতেন। এ দিন সকালে সাতটা বেজে গেলেও
উনি ঘুম থেকে না ওঠায় আমি ওঁর ঘরের সামনে গিয়ে দেখি, দরজা ভেজানো। তখন আমি চলে আসি। ১১টা নাগাদ শুনি, মোহন মারা গিয়েছেন।’’ তবে কি কারণে মৃত্যু হল মোহনের? সেই বিষয়ে ঠিক জ্ঞাত নন রীতা। বাড়ির মালকিন আরও জানান, ‘‘উনি নিয়মিত মদ্যপান করতেন। সোমবার বিকেলে ওঁকে ঘরে শেষ বার দেখেছিলাম। রাতে কেউ মোহনের নাম ধরে ডাকায় উনি বাইরে গিয়েছিলেন। তবে রাত ২টো নাগাদ ওঁর ঘরের সামনে বহু ক্ষণ কুকুরের চিৎকার শোনা গিয়েছে।’’
ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ, সোমবার গভীর রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘরে ফেরেন মোহন। তাঁর ঘরে ভীষণ ইঁদুরের উপদ্রব ছিল। পুলিশ জানিয়েছে প্রৌঢ়ের নাকের কাছে খুবলানোর দাগ মিলেছে। যা দেখে তদন্তকারীদের ধারণা, ইঁদুর জাতীয় কোনও জীব ওই কাজ করতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এলাকায় ইঁদুরের উৎপাতের কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, মোহন যে ঘরে থাকতেন, সেটি তালা বন্ধ। প্রসঙ্গত, এর আগে শহর কলকাতায় ইঁদুরের উপদ্রব বাড়া নিয়ে সকলকে সাবধান হতে বলেছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর সেই সাবধানবাণী শোনার পরে কসবায় মৃতের নাকে ইঁদুর ক্ষত করায় চিন্তা বেড়েছে প্রশাসনের। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে। তার রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
